নিরাপত্তায় গাফিলতির মাশুল! কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৫ বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুতে তোলপাড়

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার ভোরে ওই হোটেলে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ার পর দমকলের চারটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং ১টি শিশু রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর প্রশাসনের নির্দেশেই ওই বিল্ডিংয়ের হোটেলটি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মর্মান্তিক পরিণতি বাংলাদেশী সাংবাদিক পরিবারের
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, মৃত ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই বাংলাদেশী নাগরিক। জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়ে সেখান থেকে মঙ্গলবারই কলকাতায় এসেছিলেন ‘আজকের আলো’ সংবাদপত্রের সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত। এই দুর্ঘটনায় তাঁর পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন এবং তাঁদের মাত্র তিন বছরের ছোট্ট সন্তান শর্ণশিষ দত্ত। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ আকরাম আলি এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এই পাঁচ বাংলাদেশী নাগরিকের আকস্মিক মৃত্যুতে দুই বাংলাতেই শোকের মাতম চলছে।
কড়া পদক্ষেপ ও বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পৌরসভা। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট হোটেলটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শহরের সমস্ত হোটেলের অগ্নিসুরক্ষা যাচাই করতে কলকাতা পৌরসভা ১৬টি বরোতে পৃথক ইন্সপেকশন টিম গঠন করেছে। তপসিয়ার অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত অডিট টিমের সঙ্গে লাইসেন্স বিভাগকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ কমিটিতে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিএসসির প্রতিনিধিরা থাকছেন।
আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে এই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এক মাসের মধ্যে বিস্তারিত অডিট রিপোর্ট পেশ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মেনে চলা এবং নজরদারির অভাবে গড়ে ওঠা এই ধরনের পরিকাঠামোয় গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।