আইফোন ও বাইকের লোভ! সিনেমার কায়দায় প্রেমিককে দিয়ে নিজের দাদুকে খুন করাল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

কেরলে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হাড়হিম করা ঘটনা। একটি আইফোন এবং একটি বাইকের লোভের বশে নিজের দাদুকে নির্মমভাবে খুন করাল ১৩ বছরের এক কিশোরী। শুধু তাই নয়, ভিডিও কলের মাধ্যমে ফোনের ওপ্রান্ত থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিজের চোখে প্রত্যক্ষও করেছে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী। তামিল ছবি ‘স্পাইডার’-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক সিনেমা থেকে কৌশল শিখে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর অপরাধের নেপথ্য কাহিনী
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কারুভাট্টা মাডাপ্পুরাইক্কাল পাডেট্টাথিলে। নিহত ব্যক্তির নাম শিবানকুট্টি (৬৭)। যখন এই জঘন্য ঘটনা ঘটে, তখন শিবানকুট্টির স্ত্রী মেয়ের প্রসবের কারণে হাসপাতালে ছিলেন। এই ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ১৩ বছরের ওই কিশোরীকেই চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার নির্দেশেই কোল্লামের পারাবুরের ১৭ বছর বয়সি তার প্রেমিক এবং তার দুই কিশোর বন্ধু মিলে এই খুন চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই ছাত্র প্লাস ওয়ান ও প্লাস টু-তে পড়াশোনা করলেও অন্যজন আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত চারজনই পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
সিনেমা দেখে প্রমাণ লোপাটের ছক
আলাপ্পুঝার এসপি টি কে বিষ্ণুপ্রদীপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্তরা গত শনিবার রাতে কারুভাট্টার ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে তারা ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা শিবানকুট্টিকে মারধর করে এবং কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পুলিশ ও ডগ স্কোয়াডকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তারা গোটা বাড়িতে লঙ্কা গুঁড়ো ছড়িয়ে দেয় এবং বাথরুমের চারপাশে তরল রাসায়নিক স্প্রে করে। তামিল চলচ্চিত্র ‘স্পাইডার’-সহ বিভিন্ন সিনেমা থেকে কৌশল শিখে কীভাবে অপরাধ ও প্রমাণ লোপাট করতে হয়, তার পরিকল্পনা করেছিল পারাবুরের ওই কিশোররা।
দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও নগদ টাকা লুটের পরিকল্পনা করেই এই খুন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, চুরি যাওয়া সোনা বিক্রি করে প্রেমিকার জন্য একটি আইফোন এবং প্রেমিকের জন্য একটি বাইক কেনা। লুট করা সোনার আংটিটি কোল্লামে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রিও করা হয়। যদিও পুলিশের তৎপরতায় পরবর্তীতে সমস্ত চুরি যাওয়া সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং চোরাই সোনা বিক্রিতে সাহায্যকারী এক ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের জালে অভিযুক্তরা
তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে জেরা করার সময় ১৩ বছরের ওই কিশোরী অত্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং সে ধরা পড়বে না এমন আত্মবিশ্বাসে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বা লোকেশন ডেটা পর্যন্ত ডিলট করেনি। কিন্তু সাইবার প্রমাণের মুখোমুখি করার পরই সে সমস্ত অপরাধ স্বীকার করে নেয়। জেরায় সে দাবি করেছে, দাদুর সঙ্গে তার বনিবনা ছিল না এবং তিনি দুর্ব্যবহার করতেন। তবে এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তারা মাদক ব্যবহার করেছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই তিন কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার জন্য জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।