হাইকোর্টে চরম গোপনীয়তা লঙ্ঘন! সুজিত বসুর মামলা থেকে হঠাৎ কেন সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ?

কলকাতা হাইকোর্টে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেল। রাজ্যের হাইপ্রোফাইল সুজিত বসুর মামলা থেকে হঠাৎই নিজেদের পুরোপুরি অব্যাহতি নিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার আদালতের অন্দরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে গোটা বিষয়টি জানানোর পর মামলাটি অন্য এজলাসে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল বিচারপতির চেম্বারে?
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার সুজিত বসুর মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট আবেদনকারী সুজিত বসুর পক্ষের এক আইনজীবী বিচারপতির অনুপস্থিতিতে সরাসরি তাঁর চেম্বারে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, চেম্বারে থাকা মামলার ফাইল নিয়ে আসার জন্য তিনি বিচারপতির ব্যক্তিগত সেক্রেটারিকে নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ।

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এদিন আদালতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” বিচারপতির চেম্বারে এ ধরনের অনধিকার প্রবেশ ও গোপনীয়তা ভঙ্গের বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির গোচরে আনেন। এরপরই তিনি ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নতুন কোনো বিচারপতির একক বা ডিভিশন বেঞ্চ ঠিক করবেন, যা এই মামলার পরবর্তী শুনানি গ্রহণ করবে।

কী ছিল এই মামলার প্রেক্ষাপট?
গত সোমবারের শুনানিতে সুজিত বসুর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেছিলেন যে, তাঁর মক্কেলকে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ইডি এই মামলায় সুজিত বসুকে মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেগে দিলেও, এর আগে ২০২৪-২৫ সালে সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিটে তাঁর নাম পর্যন্ত ছিল না। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, সুজিত বসুর স্থায়ী বাসস্থান কলকাতাতেই রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে যখনই তাঁকে তলব করা হবে, তিনি হাজিরা দেবেন। ইডি-র এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই আইনগতভাবে সমর্থযোগ্য নয় বলেই দাবি করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই শুনানির পর রায়দান স্থগিত থাকা অবস্থায় এই অপ্রীতিকর ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটায় মামলার জল বহুদদূর গড়িয়েছে। নতুন কোন বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *