কৃষকদের জন্য বিরাট উপহার! কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সীমা একলাফে বেড়ে হল ৫ লক্ষ টাকা

কৃষকদের দৈনন্দিন কৃষি ও আনুষঙ্গিক চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক প্রকল্প হলো কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) যোজনা। বীজ, সার এবং কীটনাশকের মতো চাষের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন এবং মৎস্যচাষের মতো কাজের জন্যও এই লোন ব্যবহার করা যায়। এবার দেশের অন্নদাতাদের আরও বেশি আর্থিক সুবিধা দিতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে এই প্রকল্পের অধীনে ঋণের সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে সোজা ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে যোগ্য কৃষকরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে লোন নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সুদের বিশেষ ছাড়
কিষাণ ক্রেডিট কার্ড স্কিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত কম সুদের হার। নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। তবে যে সমস্ত কৃষক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্বস্ততার সঙ্গে লোন শোধ করেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। ফলে এই নিয়ম মেনে চললে কৃষকদের জন্য কার্যকরী সুদের হার কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ শতাংশ। তবে মনে রাখা ভালো, সুদের এই সুবিধা পেতে হলে প্রকল্পের নির্দিষ্ট শর্তগুলি পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
বিনা গ্যারান্টিতে ঋণের সুবিধা ও পরিধি
এই প্রকল্পে বিনা গ্যারান্টিতে লোন পাওয়ার নিয়মমাফিকেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত লোন এখন থেকে কোনো ধরনের গ্যারান্টি বা বন্ধক ছাড়াই পাওয়া সম্ভব। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা জমি বা অন্য কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখার ঝামেলা ছাড়াই সহজে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতে পারেন। শুধু তাই নয়, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের পরিধি এখন কেবল কৃষিকাজেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পশুপালন ও মাছ চাষের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও এর সুফল প্রসারিত করা হয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন নির্দেশিকা
এদিকে, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড লোন সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই সংশোধিত নির্দেশিকাগুলি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এর আগে বিতরণ করা লোনগুলির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী রিনিউয়াল না হওয়া পর্যন্ত পুরনো নিয়মই বহাল থাকবে। তাই নতুন নিয়ম আসমাত্রই যে সমস্ত পুরনো KCC লোনের ওপর তা তৎক্ষণাৎ প্রযোজ্য হবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
৫ লক্ষ টাকা ঋণ কি সবাই পাবেন?
সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের হাতে পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের বর্ধিত সীমা, ৭ শতাংশ সাধারণ সুদ এবং সময়মতো পরিশোধ করলে মিল 3 শতাংশ ছাড়—এগুলিই এই স্কিমের প্রধান আকর্ষণ। তবে মাথায় রাখা দরকার, ৫ লক্ষ টাকা প্রত্যেক কৃষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অটোমেটিক্যালি পাবেন না। কৃষকের চাষের জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন, ঋণের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা এবং ব্যাঙ্কের নিজস্ব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। তাই KCC-র জন্য আবেদন করার আগে নিকটবর্তী ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করে নিজের যোগ্যতা এবং ঋণের সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।