ট্যাক্সি চালক থেকে মার্কিন সেনেটর হওয়ার লড়াই! কে এই আবদুল এল সাইদ, যাঁর উত্থানে তোলপাড় মার্কিন রাজনীতি?

আমেরিকার রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আবদুল এল সাইদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর বিজয় ভাষণে নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কাজিনদের মতো আমারও মিশরে ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইতিহাসের দুর্ঘটনায় আমার বাবা ডেট্রয়েটে অভিবাসী হয়ে আসেন আর আমি আমেরিকান হিসেবে পরিচিতি পাই।”

তার এই উত্থান কেবল একজন মিশরীয় অভিবাসী পরিবার বা মুসলিম রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণে নয়। বরং তাঁর স্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার, ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের জোরালো দাবি তাঁকে দ্রুত পাদপ্রদীপে নিয়ে এসেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল—রাজনীতি থেকে অর্থ সরিয়ে তা সাধারণ মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

দলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন ছাড়াই ‘আউটসাইডার’ বা বহিরাগত হিসেবে লড়ে এই প্রাথমিক জয় অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই বামপন্থী মতাদর্শকে সমর্থন জানিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেক্সান্দ্রা ওসারিও-কর্টেজের মতো প্রভাবশালী নেতারা। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেটর পদে রিপাবলিকান পার্টির মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। এই লড়াইয়ে জিতলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সেনেটর।

বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সমীকরণ পাল্টেও এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *