রামমন্দির প্রণামী চুরির ঘটনায় বড় স্বস্তি! চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে ক্লিনচিট দিল SIT

রামমন্দিরের (Ram Mandir) প্রণামী বাক্সের অর্থ চুরির বিতর্ক নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোলের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর সামনে এল। বহুল আলোচিত এই ঘটনায় ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (Champat Rai) এবং প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
চলতি সপ্তাহের সোমবার উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দফতর SIT-এর এই চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট মন্দিরের ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে চম্পত রাই বা অনিল মিশ্রের সরাসরি কোনো যোগ বা সংশ্লিষ্টতা মেলেনি।
পদত্যাগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী ও অনুদান চুরির অভিযোগ সামনে আসার পরই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিরোধীরা সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে সরব হন, যার জেরে সংসদের উভয় কক্ষের কার্যক্রমও একাধিকবার ব্যাহত হয়। এই জলঘোলার মধ্যেই গত ২৭ জুন ট্রাস্টের পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র।
এরপর পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে উত্তরপ্রদেশ সরকার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। অনুদান সংগ্রহ, দানবাক্স এবং দানের হিসাব সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল।
SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে কী রয়েছে?
তদন্তকারী দলের সূত্র মারফত জানা গেছে, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন চম্পত রাই সমস্ত বিষয়ে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনও ধরনের যোগ নেই বলে তিনি আগেই দাবি করেছিলেন। উল্টে তাঁর দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সহজ হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই অপকর্মের সঙ্গে ট্রাস্টের তৎকালীন শীর্ষকর্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।