মন্দিরে গিয়ে এই ভুল ভুলেও করবেন না! ঘণ্টা বাজানোর আসল নিয়ম না জানলেই সর্বনাশ!

হিন্দু ধর্মে মন্দিরের ঘণ্টা বাজানো অত্যন্ত পবিত্র একটি কাজ। মন্দিরে প্রবেশ করলেই সাধারণ মানুষ সবার আগে ঘণ্টা বাজাতে পছন্দ করেন। এর পেছনে যেমন ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে, তেমনই মনে করা হয় এর মাধ্যমে মন শান্ত হয় এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা সহজে পৌঁছয়। তবে এই ঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম। যখন-তখন বা নিয়ম না মেনে ঘণ্টা বাজালে পুণ্য তো হয়ই না, বরং বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে সতর্ক করছেন শাস্ত্রবিদরা।

ঘণ্টা বাজানোর ইতিবাচক দিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘণ্টার পবিত্র ধ্বনিতে চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে যায় এবং একটি দিব্য পরিবেশ তৈরি হয়। বড় বড় মন্দিরে ঝোলানো ঘণ্টা বাজালে সেখান থেকে এক ধরনের গম্ভীর ‘ওম’ ধ্বনির সৃষ্টি হয়, যা মানুষের চঞ্চল মনকে নিমেষে শান্ত করতে সাহায্য করে। মন শান্ত হলে ঈশ্বরের ধ্যানে মনসংযোগ করাও সহজ হয়। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, মন্দিরে প্রবেশ করার ঠিক মুখেই ঘণ্টা বাজানো সবচেয়ে শুভ। এতে পরিবেশের সমস্ত ইতিবাচক শক্তি জাগ্রত হয়।

কখন ঘণ্টা বাজানো নিষেধ?
তবে সব পুজোয় বা সময়ে ঘণ্টা বাজানোর অনুমতি নেই। বিশেষ করে, মা লক্ষ্মীর পুজোয় ভুলেও ঘণ্টা বাজানো উচিত নয়। শাস্ত্র বলছে, মা লক্ষ্মী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের দেবী এবং তিনি শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন। ঘণ্টার তীব্র আওয়াজ বা কোলাহল তাঁর একেবারেই অপছন্দ। তাই বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুজো বা আরাধনার সময় ঘণ্টা বাজালে অশুভ ফল হতে পারে এবং বাড়ির সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর পাশাপাশি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে, যা অনেকেই না জেনে ভুল করে ফেলেন। পুজো শেষ করে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় কখনওই ঘণ্টা বাজাতে নেই। বিশ্বাস করা হয়, মন্দিরে ঢোকার সময় ঘণ্টা বাজালে যে পজিটিভ শক্তির উৎপত্তি হয়, বেরনোর সময় তা বাজালে সেই ভালো শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তাই নিয়ম মেনে মন্দিরে ঢোকার সময় ভক্তিভরে ঘণ্টা বাজান, কিন্তু পুজো শেষে ফেরার পথে এই ভুলটি আর করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *