ব্যাঙ্কক থেকে আসা বিমানে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার সোনা উদ্ধার!

ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতাগামী বিমানে প্রায় ৯০০ গ্রাম সোনা উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। উদ্ধার হওয়া এই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে দুই বিমানযাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বিমানবন্দর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতায় আসছিল ওই নির্দিষ্ট বিমানটি। তার আগেই দুই যাত্রীর সন্দেহজনক গতিবিধি ও সোনা সংক্রান্ত গোপন তথ্য এসে পৌঁছেছিল গোয়েন্দাদের হাতে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালেই বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিলেন গোয়েন্দা ও পুলিশকর্মীরা। বিমানটি অবতরণ করার পরেই ওই দুই যাত্রীকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।
এর পর সন্দেহভাজন দুই যাত্রীকে আটক করে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, তাঁদের কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যা গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় জেরা করার পর অবশেষে তাঁরা সোনা থাকার কথা স্বীকার করেন। এর পরেই তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্র তল্লাশি করে প্রায় ৯০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া এই সোনা সম্পূর্ণ ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরের স্ক্যানার বা তল্লাশি এড়িয়ে সোনা বের করতে বিশেষ প্রযুক্তি বা কৌশল ব্যবহার করেছিল পাচারকারীরা। ঠিক কী উপায়ে এই সোনা লুকিয়ে আনা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার পেছনে কোনো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পাচার চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সোনা ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কলকাতায় কার কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে ধৃতদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আন্তর্জাতিক বিমানপথ ব্যবহার করে সোনা পাচারের সঙ্গে একাধিক সক্রিয় চক্র যুক্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে এই দুই যাত্রী কি কেবল বাহক মাত্র, নাকি তাঁদের নেপথ্যে আরও বড় কোনো মাথা কাজ করছে, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতায় সোনা উদ্ধারের ঘটনা নতুন না হলেও, এক ধাক্কায় প্রায় দেড় কোটি টাকার সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আটক দুই যাত্রীকে লাগাতার জেরা করে এই পাচারচক্রের মূল পান্ডাদের নাগাল পাওয়া যায় কি না, এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তদন্তকারীরা।