অভিষেক বচ্চন থেকে জয়া— গরুর গাড়ি থেকে হেলিকপ্টার! বাংলার মাটিতে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকের কোন গোপন ইতিহাস আজও রহস্য?

বাংলা ছবির সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রাজা সেনের জীবনাবসান হয়েছে। গত রবিবার ভোরে ৭০ বছর বয়সে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে, তেমনই আড়াই দশক আগের এক রোমাঞ্চকর শ্যুটিংয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে উত্তরবঙ্গের মালবাজার ও ডুয়ার্সবাসীর মনে।
ঠিক ২৫ বছর আগের কথা। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কালিম্পং জেলার গরুবাথানের একটি সরকারি স্কুলে হঠাৎ করেই বিরাট লটবহর নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের পতাকা তোলার আয়োজন দেখে তাজ্জব বনে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রফুল্ল রায়ের কাহিনী অবলম্বনে প্রখ্যাত পরিচালক রাজা সেন তখন তাঁর নতুন ছবির শুটিংয়ে হাজির হয়েছিলেন সেখানে। এই ছবির হাত ধরেই দীর্ঘ ২৭ বছর পর বাংলা সিনেমায় কামব্যাক করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন এক প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী সুপ্রভা দেবীর চরিত্রে। আর তাঁর সঙ্গে তৎকালীন এক স্থানীয় সাংবাদিকের ভূমিকায় নজর কেড়েছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী।
শুধু জিয়াই নন, সেই সময় ডুয়ার্সে রাজা সেনের এই ছবির টানে হাজির হয়েছিলেন গোটা একঝাঁক তারকা। চালসার একটি বেসরকারি রিসর্টে ছিলেন জয়া বচ্চন, আর মালবাজারের ট্যুরিস্ট লজে দিন কাটিয়েছিলেন খোদ পরিচালক। এমনকি ৪-৫ দিনের জন্য অতিথি শিল্পী হিসেবে সেখানে পা রেখেছিলেন অভিষেক বচ্চনও, যাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল মূর্তির বনানী বাংলোয়। সেদিনের সেই শ্যুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আজও রোমাঞ্চিত হন। তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের হাততালি, ড্রোনের বদলে হেলিকপ্টার দিয়ে শুটিংয়ের সেই অভিনব কায়দা এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর অনবদ্য চিত্রনাট্য লেখার মুহূর্ত আজও অমলিন ডুয়ার্সের মানুষের মনে। পরিচালক রাজা সেনের মহাপ্রয়াণে সেই ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোই এখন ফিরে ফিরে আসছে ভক্তদের স্মৃতির পাতায়।