‘ওটা ওনার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সমাজ দায় নেবে না!’ নেতাজি-বিতর্কে অনন্ত মহারাজের ওপর বেজায় চটা রাজবংশীরা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন অনন্ত মহারাজ তথা নগেন্দ্র রায়। ইতিমধ্যেই তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে রাজবংশী সমাজের একাংশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের দায় গোটা সমাজের নয়। উলটে নেতাজির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজবংশী সংগঠন।

ঠিক কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ?

কিছুদিন আগেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা এবং নেতাজির অবদান নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি। এরপর তাঁর কিছু অনুগামীও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট করতে শুরু করেন।

রাজবংশী সমাজ ও সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ

অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠলেও, রাজবংশী সমাজের বিভিন্ন সংগঠন সাফ জানিয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।

  • কোচ রাজবংশী ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিজন রায় বলেন, “নগেন রায় যে মন্তব্য করেছেন, সেটা ওনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। ওনার ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় রাজবংশী সমাজ নেবে না। নেতাজি দেশের নায়ক, দেশের সম্পদ। আমরা চাই যারা নেতাজিকে অবমাননা করছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিক।”

  • কোচ রাজবংশী যুবসমাজের সহ সভাপতি সৌমিত্র বর্মণ জানান, “নেতাজি সম্পর্কে এ ধরনের কথা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নেতাজি কোনো এক রাজ্যের বা জাতির নন, তিনি গোটা ভারতবর্ষের নেতা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

  • কোচ রাজবংশী উন্নয়ন মঞ্চের প্রেসিডেন্ট পার্থ বর্মণও একই সুর গেয়ে বলেন, “অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজবংশী সমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহল। এই বিতর্কিত মন্তব্যের সঙ্গে সমগ্র সমাজের কোনো যোগ নেই।”

সামূহিক আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ

রাজবংশী সংগঠনগুলির অভিযোগ, অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যকে সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো রাজবংশী সমাজকে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং ‘দেশবিরোধী’ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জাতি ও জনজাতির মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নেতাজিকে অবমাননাকারীদের শাস্তির পাশাপাশি, যারা এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সমাজে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে রাজবংশী সংগঠনগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *