নবান্ন অতীত! রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন কি এবার সরছে নিউটাউনে? জল্পনা তুঙ্গে

রাইটার্স বিল্ডিং নয়, রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে নিউটাউনে—নবান্ন সূত্রের এমনটাই খবর। আর সেই পরিকল্পনা মতোই আগামী দিনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, মহাকরণে বা রাইটার্স বিল্ডিং-এ জায়গার অপ্রতুলতা রয়েছে এবং সরকারের মূল লক্ষ্য রাজ্যের সমস্ত দফতরকে একই ছাদের তলায় নিয়ে আসা। আর সেই কারণেই রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে নিউটাউনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে নিউটাউনের ঠিক কোন জায়গায় এই নতুন প্রশাসনিক ভবন তৈরি করা হবে, তা এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক আলোচনার স্তরেই রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যের ৫৪টি দফতরকেই এক ছাদের তলায় নিয়ে আসতে চাইছে সরকার। রাজ্যবাসীর কাজের গতি দ্রুত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন একটি আধুনিক সদর কার্যালয় তৈরি করতে চায় প্রশাসন। সেই কারণেই প্রধান প্রশাসনিক ভবনটি নিউটাউনে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কোথায় তৈরি হতে পারে এই ভবন?
সূত্রের খবর, নিউটাউনের নজরুলতীর্থ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন প্রায় ১৭.২৮ একর জমি নিয়ে প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তারা আরও দু’-এক টুকরো জমি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, নজরুলতীর্থ সংলগ্ন ওই জমিতে পূর্বে একটি ‘দুর্গাঙ্গন’ তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কার্যালয় তৈরির কাজ সম্পন্ন করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেইমতো জমি চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন।

প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয়ের ইতিহাস ও পটভূমি
সালটা ছিল ২০১৩ সাল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ অক্টোবর নবান্নে চলে গিয়েছিলেন। সেই সময় জানানো হয়েছিল যে মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলছে এবং মাত্র ছয় মাসের জন্য রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় মহাকরণ থেকে নবান্নে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। ছয় মাস পর আবার ফিরে আসার কথা থাকলেও, মহাকরণ থেকে পাকাপাকিভাবে সরে যাওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় তেরো বছর। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেলেও প্রধান কার্যালয় আর মহাকরণে ফেরেনি।

মহাকরণ বা লালবাড়ি নামক এই ঐতিহাসিক ভবনে গত কয়েক বছর ধরেই সংস্কারের কাজ চলছে। হেরিটেজ সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে মহাকরণের সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা আশানুরূপ গতিতে এগোয়নি। তবে এর পরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অফিস এখনও এখান থেকেই পরিচালিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্ট, ভূমি সংস্কার দফতর, কৃষি দফতর এবং পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের একটি অংশ। এছাড়াও আইন দফতর, জুডিশিয়াল এবং পরিষদীয় বিষয়ক দফতরের কিছু অংশ এখান থেকেই দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *