গ্যারান্টার ছাড়াই মিলবে ৩ লক্ষ টাকা! মহিলাদের জন্য দুর্দান্ত উদ্যোগ মোদী সরকারের

দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কেন্দ্র সরকারের তরফে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘উদ্যোগিনী যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের মহিলারা নিজেদের ছোট ব্যবসা শুরু করতে অথবা বর্তমান ব্যবসাকে আরও প্রসারিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। বিশেষ বিষয় হলো, এই ঋণ পাওয়ার জন্য কোনো জামিনদার বা গ্যারেন্টারের প্রয়োজন হয় না, এমনকি কোনো সম্পত্তিও বন্ধক রাখতে হয় না।
কাদের জন্য এই ঋণ?
উদ্যোগিনী যোজনা মূলত সেই সমস্ত মহিলাদের জন্য যাঁরা নতুন ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছুক। তবে এই ঋণ পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদনকারী মহিলার বয়স, পারিবারিক বার্ষিক আয় এবং পূর্ববর্তী ঋণ সংক্রান্ত তথ্যাদি যাচাই করার পরই লোন মঞ্জুর করা হয়।
ভর্তুকি ও বিশেষ সুবিধা
সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেওয়ার তুলনায় এই প্রকল্পে বিশেষ কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।
-
ভর্তুকি: সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা এই লোনের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি বা সাবসিডি পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, তফশিলি জাতি (SC) এবং তফশিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত মহিলাদের জন্য এই সাবসিডির পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
-
বিশেষ সুদ: বিধবা, বিশেষভাবে সক্ষম এবং দুঃস্থ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুদের হারের সুবিধা দেওয়া হয়।
আবেদনের প্রধান শর্তসমূহ
-
বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলার বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
বার্ষিক আয়: এই প্রকল্পে ঋণ পেতে হলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বিধবা, বিশেষভাবে সক্ষম এবং অসহায় মহিলাদের ক্ষেত্রে আয়ের এই সীমানায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।
-
ক্রেডিট হিস্ট্রি: অতীতে কোনো লোন নেওয়া থাকলে তা সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
উদ্যোগিনী যোজনার জন্য আবেদন করতে গেলে যে সমস্ত নথিপত্র আবশ্যিক, সেগুলি হলো—
-
পরিচয়পত্র (যেমন ভোটার কার্ড)
-
আয়ের প্রমাণপত্র
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
-
ব্যবসার খসড়া বা নথিপত্র
কীভাবে আবেদন করবেন?
উদ্যোগিনী যোজনার আওতায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার জন্য নিকটস্থ ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করতে হবে। ব্যাঙ্ক থেকে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করে ঋণ মঞ্জুর করলে সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছে যাবে।