১৫ ফুটের বিশাল অজগর কামড়েও দমাতে পারল না! মদ্যপ যুবকের কাণ্ড দেখে থমকে গেলেন স্থানীয়রা

শুক্রবার গভীর সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের বারাবঙ্কিতে এক অভূতপূর্ব ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় একটি মাংসের দোকানে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা একটি বিশাল অজগর সাপ। দোকানের ভেতরে থাকা ছাগলগুলিকে শিকার করার উদ্দেশ্যেই সাপটি সেখানে হানা দিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ছাগলের ওপর আক্রমণ চালানোর ঠিক আগে বিষয়টি দোকান মালিকের নজরে আসায় মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মদ্যপ যুবকের অকুতোভয় সাহসিকতা

ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সুরেশ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি, যিনি সেই মুহূর্তে মারাত্মক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। দোকানের ভেতর অত বড় একটি অজগর দেখতে পেয়েও তিনি একটুও ভয় পাননি। বরং সম্পূর্ণ খালি হাতেই অকুতোভয়ে বিশাল সাপটির মুখোমুখি হন তিনি।

নিজেকে ছাড়ানোর জন্য অজগরটি মরিয়া চেষ্টা চালায় এবং সুরেশের হাতের চারপাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। এমনকি নিজেকে মুক্ত করতে সুরেশকে দু-একবার কামড়েও দেয় সাপটি। তবে অজগর বিষাক্ত না হওয়ায় তাঁর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। সমস্ত বাধা ও ধস্তাধস্তি উপেক্ষা করে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে শেষ পর্যন্ত সাপটিকে একাই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন ওই মদ্যপ ব্যক্তি।

অজগরকে গলায় জড়িয়ে খেলা!

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ঘটে আরও এক অবিশ্বাস্য ও শিহরণ জাগানো ঘটনা। বিশাল আকৃতির ওই অজগরটিকে আক্ষরিক অর্থেই মালার মতো নিজের গলার চারপাশে জড়িয়ে নেন সুরেশ এবং প্রকাশ্যে তা নিয়ে খেলা শুরু করেন। এই অদ্ভুত ও রোমহর্ষক দৃশ্য দেখতে রাস্তায় পথচলতি মানুষ ও স্থানীয় দোকানদাররা ভিড় জমান। কিছুক্ষণ সাপটিকে নিয়ে এই রুদ্ধশ্বাস খেলা চলার পর, সুরেশ খুব সাবধানে সেটিকে একটি বড় পাত্রের মধ্যে বন্দি করেন।

অবশেষে নিরাপদে মুক্তি

পরবর্তীতে পাত্রে বন্দি সাপটিকে নিয়ে গিয়ে এলাকার একটি বড় নর্দমার কাছে ছেড়ে দেন তিনি। নর্দমায় নামানোর পর অজগরটি শেষবারের মতো তার ফণাটি শূন্যে প্রায় তিন ফুট উঁচুতে তুলে রাগ প্রদর্শন করে এবং কিছুটা সময় থমকে থেকে ধীরে ধীরে অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে যায়। সাপটি পুরোপুরি চোখের আড়াল হওয়ার পরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন আতঙ্কিত ও কৌতূহলী এলাকাবাসীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *