গান থামানো নিয়ে জোর বিতর্ক! সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে কোন সাফাই দিল কংগ্রেস?

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর কংগ্রেস সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশন করা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে কোন্দল। বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, কংগ্রেস সদর দপ্তরের ওই অনুষ্ঠানে সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ায় বাধা দেন এবং তা থামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিজেপির এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে হাত শিবির।

কংগ্রেসের স্পষ্টীকরণ

বিজেপির এই বিস্ফোরক অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সোনিয়া গান্ধী বন্দে মাতরম গাইতে বাধা দেননি, বরং দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের জন্য বসার একটি চেয়ার আনার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দলীয় কার্যালয়ে বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় কোনও রকম বিঘ্ন ঘটেনি এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন আইন ও বিতর্কের সূত্রপাত

সংসদের সাম্প্রতিক বর্ষাকালীন অধিবেশনে পাস হওয়া ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-কে অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এই গানে বাধা দেওয়া বা অপমান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি শ্লোকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ সংস্করণটি গাওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে।

তবে এই নতুন নিয়ম এবং বাধ্যতামূলকভাবে সম্পূর্ণ গান গাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও। তাঁর যুক্তি, আইনি নির্দেশ জারি করে মানুষের মনে শ্রদ্ধাবোধ জাগানো যায় না, বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার মতো কিছু বাস্তব সমস্যা এর ফলে তৈরি হতে পারে। সবমিলিয়ে, স্বাধীনতা দিবসের আবহে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *