‘৩৭০ ধারা না ভাঙলে আজ ছবিটা অন্যরকম হতো…’, মোদী সরকারকে নিশানা করে কী বললেন ওমর?

কেন্দ্র সরকার যদি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তথা ৩৭০ ধারা বাতিল না করত এবং রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে না নিত, তবে এতদিন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) সাধারণ মানুষই ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতেন! ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
শনিবার শ্রীনগরে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভারতের অংশ হওয়ার জন্য কাশ্মীরিরা যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা কতটা সঠিক ছিল।”
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান অস্থিরতা ও বিক্ষোভ নিয়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে ওমর আবদুল্লা জানান, সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে। নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে লড়াই করতে গিয়ে সেখানে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন এবং জেলে বন্দি হয়েছেন। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তাঁর দাদু তথা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ‘প্রধানমন্ত্রী’ শেখ মহম্মদ আবদুল্লাকে। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় সেনা পৌঁছানোর আগেই পাকিস্তানিদের রুখতে কীভাবে শেখ আবদুল্লা স্থানীয় কাশ্মীরিদের ঐক্যবদ্ধ করে নিজের জন্মভূমি রক্ষা করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন তিনি।
তবে এর পরেই কেন্দ্র সরকারের ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তকে সরাসরি নিশানা করেন ওমর। তিনি যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত যে ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য পুনর্গঠন ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া না হলে, আজ পিওকে-র সাধারণ মানুষ নিজেরাই জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে এক হওয়ার জন্য আওয়াজ তুলতেন। আমরা তো বিধানসভায় সীমান্তের ওপাশের জন্য আসন ফাঁকাই রেখেছি এই আশায়, যাতে কোনও একদিন সেই আসনগুলি পূর্ণ হবে।”
ওমর আবদুল্লার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র তোপ দেগেছেন জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি পবিত্র জাতীয় উদযাপনের দিনে একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।