গোলাবারুদের দিন শেষ, এবার নতুন বিপদ ‘চিন্তার নকশাল’! লালকেল্লা থেকে দেশবাসীকে কিসের সতর্কবার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

শনিবার রাজধানী দিল্লিতে অত্যন্ত জাঁকজমক ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হলো দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে দীর্ঘ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এদিনের সেই মঞ্চ থেকেই সশস্ত্র নকশালদের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি এক নতুন ও সুপ্ত বিপদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, সশস্ত্র নকশালবাদ দমনে বিগত বছরগুলিতে দেশ দারুণ সাফল্য পেলেও, বর্তমানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ‘চিন্তাধারায় নকশালবাদ’ বা ‘দিমাগি নকশালবাদ’। তাঁর দাবি, এই অদৃশ্য শত্রুরা এখনও সমাজে হিংসা ও নৈরাজ্য ছড়ানোর সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

নকশাল দমনে অতীতের ব্যর্থতা ও বর্তমান সাফল্যের চিত্র

এদিনের ভাষণে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগের দিনগুলির স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নকশালদের রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসে রক্তাক্ত হয়েছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই তাঁরা দেশকে মাওবাদী হিংসা থেকে মুক্ত করার দৃপ্ত অঙ্গীকার নিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, অতীতে যে সমস্ত অঞ্চলে মাওবাদীদের বন্দুক ও গুলির দাপট চলত, আজ ঠিক সেই সমস্ত জায়গাতেই উন্নয়ন, শান্তি এবং অগাধ বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তেরঙ্গা পতাকা উড়ছে। একসময়ের সন্ত্রস্ত মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলগুলি আজ দেশের মূলস্রোতের উন্নয়নের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে।

তবে নকশালদের সশস্ত্র তাণ্ডব দমনের সাফল্যের কথা বললেও, প্রধানমন্ত্রী এদিনের দেশবাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরেন ‘দিমাগি নকশাল’ তত্ত্ব। তাঁর মতে, এই পরিবর্তিত মানসিকতার ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলি হয়তো সরাসরি অস্ত্র হাতে লড়ছে না, কিন্তু তাদের চিন্তন ও মতাদর্শ সমাজকে ভেতর থেকে অস্থির করে তোলার চক্রান্ত করছে। আর সেই কারণেই এই মানসিকতার মানুষদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বয়কট করার কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *