‘মাথায় ছাদ নেই, কোথায় লাগাব পতাকা?’ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে থার্মকলের ঘর হাতে অভিনব প্রতিবাদ গ্রামবাসীদের

‘মাথায় স্থায়ী ছাদ না থাকলে তেরঙার অর্থ কী?’ হাওড়ায় আবাস যোজনার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ গ্রামবাসীদের
দেশজুড়ে যখন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে ঘিরে উৎসাহ এবং উদ্দীপনার পরিবেশ, ঠিক সেই সময়ই মাথার উপর পাকা ছাদের দাবিতে সরব হলেন হাওড়ার এক গ্রামের বাসিন্দারা। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিনে হাওড়ার কোলড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জামদণ্ড এলাকায় এক অদ্ভুত ও নজরকাড়া প্রতিবাদের ছবি সামনে এল। গ্রামের শতাধিক মানুষ এক হাতে জাতীয় পতাকা এবং অন্য হাতে থার্মকল দিয়ে তৈরি ছোট ঘরের প্রতিকৃতি নিয়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও এই মিছিলে অংশ নেয়।
বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভের কারণ
প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনা প্রকল্পে বহুবার আবেদন করা সত্ত্বেও তাঁদের অনেকেই এখনও পাকা বাড়ি পাননি। দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি সুবিধার আশায় বসে থাকলেও বর্ষার দিনে কাঁচা বাড়িতে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে জল পড়ার মতো সমস্যা নিত্যদিনের সঙ্গী। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, দেশের প্রতি তাঁদের অগাধ সম্মান থাকলেও যাঁদের নিজেদের থাকার জায়গাই সুনিশ্চিত নয়, তাঁদের কাছে ‘প্রতি ঘরে তেরঙা’ বার্তাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাঁচা বাড়িতে তেরঙা লাগালেও বৃষ্টির জলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থেই প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। স্বচ্ছভাবে তালিকা যাচাই করে যোগ্য পরিবারগুলির হাতে দ্রুত আবাসের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কোলড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিলুফা মল্লিক জানান যে বিষয়টি তাঁর কানে এসেছে। যাঁরা এখনও প্রকৃত অর্থে ঘর পাননি, তাঁদের তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে কোলড়ার এই অভিনব প্রতিবাদ সরকারি প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ন এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।