অনুমতি মেলেনি প্রথমে, মন্ত্রীর বিশেষ ফোনে সোজা রণক্ষেত্রে! কার্গিলের অজানা স্মৃতি শেয়ার করলেন নানা

অভিনেতা নানা পাটেকরের দেশপ্রেম ও অভিনয়ের মুন্সিয়ানা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে পর্দায় সেনার ভূমিকায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা যে বাস্তবের যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর স্মৃতি রোমন্থন করেছেন এই অভিনেতা। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় ঠিক কীভাবে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি নিয়ে তিনি রণক্ষেত্রে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে দু’সপ্তাহ কাটানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা নিজেই শেয়ার করেছেন নানা।

মন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি ও নানার জেদ

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সরাসরি ভারতীয় জওয়ানদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন নানা পাটেকর। প্রাথমিকভাব সেনা কর্তাদের কাছ থেকে অনুমতি না পেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। সোজা তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজকে ফোন করেন অভিনেতা।

মন্ত্রী প্রথমে এই অনুরোধ রাখতে অপারগতা প্রকাশ করলেও নানার নাছোড়বান্দা মনোভাব ও জেদের কাছে হার মানেন। শেষ পর্যন্ত নানা তাঁর ‘প্রহার’ সিনেমার শুটিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, ওই ছবির চরিত্রের জন্য তিনি টানা তিন বছর মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। অভিনেতার মুখ থেকে সেই প্রস্তুতির কথা শুনে অবাক হয়ে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তাঁকে কার্গিলে যাওয়ার বিশেষ অনুমতিপত্র দেন।

যুদ্ধের ময়দানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যান নানা পাটেকর। টানা দু’সপ্তাহের বেশি সময় তিনি ভারতীয় সেনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। যুদ্ধের চরম ভয়াবহতা এবং জওয়ানদের অমানবিক সংগ্রামের সেই দিনগুলি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি।

অভিনেতার কথায়, সিলভার স্ক্রিনে সৈনিকের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা আর বাস্তবের যুদ্ধক্ষেত্রে পা রাখা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কার্গিলের সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং দেশের জওয়ানদের আত্মত্যাগের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

২০ কেজি ওজন কমে যাওয়ার রহস্য

যুদ্ধক্ষেত্রের প্রবল মানসিক ও শারীরিক চাপ নানার শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জানান, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় তাঁর ওজন ছিল প্রায় ৭৬ কেজি। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার সময় তা এক ঝটকায় কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ কেজিতে। অর্থাৎ, মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর প্রায় ২০ কেজি ওজন হ্রাস পেয়েছিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা ও কঠিন পরিস্থিতির এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *