মালদায় চরম নাটক! তলবি সভার মুখেই পদত্যাগ করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি?

মালদা জেলা পরিষদের অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে চরম রাজনৈতিক নাটক। তলবি সভা বসার ঠিক আগের মুহূর্তে পদত্যাগ করেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি। শুধু জেলা পরিষদের পদ থেকেই নয়, তৃণমূলের সমস্ত দলীয় পদ থেকেও তাঁরা ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতাসীন বোর্ডে ক্ষমতার সমীকরণে চিড় ধরে। সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদে একনায়কতন্ত্র চালানোর অভিযোগ তুলতে শুরু করেন বোর্ডের একাংশ সদস্য। সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জোরালো হয়।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গত ১৫ জুন মালদার ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন ক্ষমতাসীন বোর্ডের ১৭ জন সদস্য। সেই অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেন কংগ্রেসের পাঁচজনও। ৪৩ আসনের এই জেলা পরিষদে ২২ জন সদস্যই সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির অপসারণ দাবি করেন।

প্রশাসনের তরফে ২৫ জুন তলবি সভা ডাকা হলেও পরবর্তীতে পুলিশি সমস্যার কারণ দেখিয়ে সভা স্থগিত করা হয়। এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকারীরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে ১৭ অগস্ট তলবি সভার দিন ঘোষণা করে প্রশাসন। সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তার আগেই শুক্রবার রাতে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি।

এই পদত্যাগ নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বোর্ড ভাঙাগড়ার খেলায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই। পদত্যাগী সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলায় উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। সেই কারণেই তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *