৪৭ লক্ষ টাকার চুল কিনে টাকা না দিয়ে সোজা ভিয়েতনাম পালানোর ছক! শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে কী হল জানেন?

টাকার বদলে কেবল টালবাহানা। প্রায় দুশো কেজি মানুষের চুল কিনে কোটি কোটি টাকার কাছাকাছি বকেয়া না মিটিয়েই সোজা ভিয়েতনাম পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন এক বিদেশি নাগরিক। শেষরক্ষা অবশ্য হল না। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং দিল্লি বিমানবন্দরের যৌথ তৎপরতায় দেশ ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমান থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে অভিযুক্তকে। ভিয়েতনামের নাগরিক হোয়াং ভান থাংয়ের এমন কাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানা এলাকায়।
গত ১২ অগস্ট ভগবানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৌতম মাইতি নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভিয়েতনামের নাগরিক হোয়াং ভান থাং তাঁর কাছ থেকে প্রায় দুশো কেজি মানুষের চুল কেনেন। যার বর্তমান বাজারদর আনুমানিক সাতচল্লিশ লক্ষ টাকা। চুলগুলি ভিয়েতনামে পাঠিয়ে দেওয়ার পরই টাকা মেটানোর পালা আসতেই শুরু হয় নানা টালবাহানা। অভিযোগ, কোনও অর্থ পরিশোধ না করেই গোপনে দেশ ছেড়ে চম্পট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বিদেশি নাগরিক।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। ভগবানপুর থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে শুরু হয় জোরদার তদন্ত। এর পরেই গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত ভিয়েতনামী নাগরিক দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিদেশি বিমানে চড়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সুরক্ষাসেবা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা, সিআইএসএফ, কলকাতা ও দিল্লির এফআরআরও এবং পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির যৌথ ও দ্রুত পদক্ষেপে বিমানে ওঠার ঠিক পূর্বমুহূর্তে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। ঘটনার পরই ভগবানপুর থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল দ্রুত দিল্লি পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সেরে ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে পূর্ব মেদিনীপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। ধৃত ওই ব্যবসায়ী অন্য কোনও আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।