জেন জি প্রজন্মের জন্য বিরাট উপহার! লালকেল্লা থেকে ফ্রি কোচিং ও এআই ট্রেনিঙের মেগা ঘোষণা মোদীর

দেশের তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশের ছাত্রসমাজ ও যুবশক্তির জন্য একঝাঁক মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্থিক বোঝা কমাতে এবং ভারতকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্বমঞ্চের সামনের সারিতে নিয়ে যেতে এই ঘোষণাগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহল।
বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনলাইন কোচিং
দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী সরকারি চাকরি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলের মতো সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বড় শহরের ব্যয়বহুল কোচিং সেন্টারের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হন। এর জেরে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়, যা তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
এই সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এবং দেশের সেরা শিক্ষকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে একটি দেশব্যাপী শক্তিশালী অনলাইন কোচিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আর ঘরবাড়ি ছেড়ে ভিন শহরে গিয়ে মোটা টাকা খরচ করে থাকতে হবে না। ঘরে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চমানের কোচিং মেটেরিয়াল এবং ক্লাসের সুবিধা তারা সরাসরি নিজেদের স্ক্রিনেই পেয়ে যাবেন।
আগামী এক বছরে ১ কোটি তরুণকে এআই (AI) প্রশিক্ষণ
ভবিষ্যতের গ্লোবাল জব মার্কেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকা যে অপরিসীম, তা বারবার উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার এই প্রসারণ নিশ্চিত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে ভারতের ১ কোটি তরুণ-তরুণীকে এআই স্কিল ট্রেনিং দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় যুবসমাজ যাতে আগামী দিনে কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী (Consumer) হয়ে না থাকে, বরং বিশ্বমঞ্চে এই বিপ্লবের নেতৃত্ব (Leader) দিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারি স্তর থেকে ‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’-এর অধীনে ‘YUVA AI for ALL’-এর মতো ব্যবহারিক ও শংসাপত্রযুক্ত কোর্স চালু করা হয়েছে, যা এবার আরও বৃহত্তর পরিসরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন দেশের গ্রামীণ ও সাধারণ ঘরের তরুণদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।