মাঝরাতে মহুয়াকে তাড়ানোর চেষ্টা! ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ও ফোন ঘিরে তুলকালাম

শুক্রবার গভীর রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসের ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে বারবার ফোন এবং লিখিত বার্তা পাঠিয়ে অবিলম্বে সার্কিট হাউস ছাড়তে বলা হয়। পাশাপাশি, ওই সময়ে সার্কিট হাউসের বাইরে একটি বড় জমায়েত থেকে স্লোগান দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

মহুয়া মৈত্রের টাইমলাইন ও অভিযোগ

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বের টুইটার) জানান, তিনি শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে পৌঁছন এবং তাঁকে তাঁর নিয়মিত বরাদ্দ ঘরটিই দেওয়া হয়। রাত ন’টা কুড়ি মিনিট নাগাদ তাঁর ঘরে রাতের খাবারও পৌঁছে যায়। এরপরই রাত ন’টা সাতচল্লিশ মিনিটে তাঁর কাছে প্রথম ফোন আসে এবং ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রাত দশটা বায়ান্ন মিনিটে তাঁকে এ বিষয়ে লিখিত মেসেজও পাঠানো হয় বলে তাঁর দাবি। একজন নির্বাচিত মহিলা সাংসদকে অতিরিক্ত জেলাশাসকের মাধ্যমে এভাবে মাঝরাতে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় তিনি গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাংসদদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত ওই সার্কিট হাউস থেকে তাঁকে এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মহুয়া। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ট্যাগ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত একজন সাংসদ এবং সংসদের অধিবেশন সবেমাত্র শেষ হয়েছে। প্রশাসনের এই অনৈতিক নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি ঘর খালি করতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে তিনি পিছু হঠার পাত্রী নন।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদব। লোকসভার স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নির্বাচিত সাংসদকে এভাবে সরকারি সার্কিট হাউস থেকে জোর করে ঘর খালি করতে বলা তাঁর সংসদীয় বিশেষাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন কি না।

অন্যদিকে, এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, একজন মহিলা সাংসদকে মাঝরাতে সার্কিট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার ফতোয়া জারি করা হয়েছে। শাসকদলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একদিকে নারী ক্ষমতায়নের বড় বড় কথা বলা হয়, আর অন্যদিকে একটি রাজনৈতিক দলের ইশারায় মহিলার মর্যাদাকে এভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়। যে সরকার একজন মহিলার সম্মানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার করে, তারা আসলে নিজেদেরই ক্ষুদ্র মানসিকতার পরিচয় দেয় বলে তোপ দেগেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *