আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নয়! বার কাউন্সিলকে চরম ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট যা জানালআইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নয়! বার কাউন্সিলকে চরম ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট যা জানাল

নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-এর পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিসিআই বা অন্য কোনো রাজ্য বার কাউন্সিল দেশের কোনো আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় বিসিআইয়ের কড়া সমালোচনা করেছে শীর্ষ আদালত।
সম্প্রতি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে গিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। তবে সেই অনুষ্ঠানে তাঁর আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখায়। এরপরই বিসিআই একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় চলতি বছরের উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের আইনজীবী হিসাবে নথিভুক্ত না করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দোষী পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করা হয়েছিল।
নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাঠানো একটি চিঠির প্রেক্ষিতে এ দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, “যে কোনো প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতেই পারেন। এটি তাঁদের মৌলিক অধিকার।” একইসঙ্গে বিসিআইয়ের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অনভিপ্রেত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি, অতীতে তিনি নিজেও ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন বলে আদালতের অন্দরে স্মরণ করেন প্রধান বিচারপতি।
এদিকে ব্যাপক সমালোচনা এবং আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে শেষমেশ নিজেদের অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয় বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র জানান, নালসার থেকে চলতি বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দমতো রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাদের পূর্বের বিতর্কিত নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।