আয়ুষ্মান কার্ড বা স্বাস্থ্যসাথী নেই? হাসপাতালে গিয়ে এই একটি কাজ করলেই মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা!

আগামী রবিবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। আপনার কাছে কি আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার কার্ড নেই? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বহু মানুষের মনে। কার্ড না থাকলে হঠাৎ অসুস্থ হলে কীভাবে চিকিৎসা করাবেন, তা নিয়ে অনেকেই চরম চিন্তায় পড়েছেন। বিমার আওতায় আদতে আপনি আসছেন কি না, কিংবা কার্ড না থাকলেও কীভাবে মিলবে সুবিধা—স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর।

কার্ড না থাকলে মিলবে কোন বিকল্প সুবিধা? স্বাস্থ্যভবনে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীসহ আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কারও যদি আয়ুষ্মান ভারত কার্ড না থাকে, তবে তিনি এর বিকল্প হিসেবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র সুবিধা নিতে পারবেন। আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতামান যদি কোনো রাজ্যবাসী পূরণ করতে না পারেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই বিকল্প প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। সবচেয়ে বড় কথা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়মকানুন এই মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাতেও পুরো পরিবারের জন্য প্রযোজ্য হবে।

হাতে কার্ড না থাকলে কীভাবে মিলবে চিকিৎসা? স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, পকেটে ফিজিক্যাল কার্ড না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। যেকোনো হাসপাতালে গিয়ে শুধুমাত্র নিজের পরিচয়পত্র বা সংশ্লিষ্ট তথ্য জমা দিলেই যথেষ্ট। হাসপাতালে গিয়ে নম্বরটি জানালেই চিকিৎসকরা অনলাইনে চেক করে দেখে নেবেন ওই ব্যক্তির আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার নাম রয়েছে কি না।

এমনকি এই দুই প্রকল্পের একটিও না থাকলে দেখা হবে পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে কি না। এই তিনটি প্রকল্পের যেকোনো একটির সঙ্গে যুক্ত থাকলেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে বলে স্বাস্থ্যভবনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে।

একটি কার্ডও না থাকলে কী করবেন? যদি কোনো নাগরিকের কাছে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা কিংবা পুরনো স্বাস্থ্যসাথী—এই তিনটি কার্ডের একটিও না থাকে, তবুও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। রাজ্যের ১ হাজার ৩০৩টি তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালের যেকোনোটিতে গিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিচয়পত্র জমা দিলেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকেই আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় নাম তোলার ফর্ম পাওয়া যাবে। সেই ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করার পর সরকারি নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে যাচাইাই পর্ব সম্পন্ন হলেই দ্রুত কার্ড পেয়ে যাবেন ওই ব্যক্তি। স্বাস্থ্যভবনের এই নতুন ও জনমুখী নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত বড় দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *