নেতাজিকে অপমান করায় ক্ষমা চাইলেও রক্ষা নেই! বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে গ্রেফতারের দাবি এসএফআইয়ের

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে ঘিরে। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েও এই বিতর্ক থেকে রেহাই পাননি তিনি। উলটোদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারির জোরালো দাবি উঠেছে। বিরোধীদের পাশাপাশি এই ঘটনায় নিজের দলের তরফেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

বিতর্কের আবহে সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে কাউকে অসম্মান করার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। কিন্তু তাঁর এই ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিতর্কে এতটুকুও ইতি পড়েনি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই সরাসরি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।

এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দেব এই বিষয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বাংলার মাটিতে যাঁরা নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় নেতাজিকে অপমান করছেন, তাঁরাই আবার রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন।” তাঁর দ্ব্যর্থহীন দাবি, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দুঃখপ্রকাশ বা সম্মান কেড়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে অনন্ত মহারাজ-সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে এবং তাঁদের গ্রেফতার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্যসভায় গিয়ে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করার অধিকারও তাঁদের খারিজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই বিতর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে কোনওভাবেই সমর্থন না করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি যত বড় বা প্রভাবশালীই হোন না কেন, নেতাজির মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কটূক্তি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

অগ্নিমিত্রার সাফ কথা, “যে ব্যক্তি যত বড় বা সম্মানীয় হোন না কেন, তিনি যদি এমন কোনও মন্তব্য করেন, সেটা একেবারেই ঠিক নয়।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্যের সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। এর সঙ্গে দল বা সরকারের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। এছাড়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, এই ইস্যু নিয়ে রাজনীতি না করাই শ্রেয়। তবে নেতাজিকে অপমান করলে কাউকে যে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না, তাও তিনি এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে নেতাজি-সহ বাংলার বরেণ্য মনীষীদের নিয়ে যে কোনো ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, অনন্ত মহারাজকে পূর্বে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে, ক্ষমা চেয়েও অনন্ত মহারাজকে ঘিরে চলা এই বিতর্ক থামার বদলে প্রতিদিন নতুন মোড় নিচ্ছে। একদিকে বিরোধীদের লাগাতার গ্রেফতারির দাবি এবং অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল—সব মিলিয়ে নেতাজিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক এখন বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও উত্তপ্ত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত অনন্তর বিরুদ্ধে প্রশাসন সরাসরি কোনো আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটে কি না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *