‘খেলা হবে’ দিবস চিরতরে বাতিল! ১৬ অগস্ট বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর রাজ্যে গঠিত হয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। নতুন সরকারের প্রথম স্বাধীনতা দিবস স্বভাবতই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন সরকারের চালু করা ১৬ অগস্টের বিতর্কিত ‘খেলা হবে’ দিবস চিরতরে বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পরিবর্তে ওই দিনটিতে রাজ্যে জাঁকজমকভাবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত হয় ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান। সেই মঞ্চ থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সাধারণ মানুষের জন্য জোড়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ১৬ অগস্ট থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কার্ড বিতরণ। একইসঙ্গে যাঁরা কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে সমতুল্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৬ অগস্ট দিনটি বাংলার বুকে অত্যন্ত রক্তস্নাত ও বেদনাদায়ক। ১৯৪৬ সালের এই দিনেই মুসলিম লিগের প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাকে কলকাতায় শুরু হয়েছিল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, যা ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে কুখ্যাত। অতীতে ওই দিনটিতে পূর্বতন সরকারের ‘খেলা হবে’ দিবস পালনের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খেলা মেলা পূজা পার্বন এগুলো তো আনন্দের অনুষ্ঠান। যেদিন দশ হাজার মানুষ কতল হয়, কলকাতায় ঘোষণা করে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম, সেটা আনন্দের দিন হতে পারে না, সেদিন খেলা মেলা হতে পারে না।”

ইতিহাসের এই কালো দিনটিতে উৎসবের রাজনীতি বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা দিতে চায় বর্তমান সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের নীতির সঙ্গে নিজেদের আদর্শগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “একদল হিন্দু গণহত্যা দিবসে ফুটবল ছুড়তেন, তাঁর আমরা শতায়ু প্রার্থনা করব। আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি জনগণ, তারা যাতে সুস্থ থাকে, নীরোগ থাকে, অর্থের অভাবে যাতে তাদের অকালেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে না হয়, সেই জন্য ধার্য হয়েছে এই দিনটি। এটাই পার্থক্য।”

আগামী রবিবার বিকেল তিনটেয় কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। স্বাস্থ্য দফতরের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল। ওই মঞ্চ থেকেই সাধারণ মানুষের হাতে স্বাস্থ্যবিমার কার্ড তুলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রের প্রকল্প এবং রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প হাতে হাত মিলিয়ে চলবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, “যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হবেন না, তাঁদের জন্য সমান সুবিধাযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমাও ওইদিনই চালু করা হবে।”

উল্লেখ্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন করে মূল্যায়নের পথে হাঁটছে। এর আগে পূর্বতন সরকারের চালু করা পয়লা বৈশাখের পরিবর্তে ২০ জুন দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায় উঠে আসে সেই প্রসঙ্গও। পূর্ববর্তী শাসকদের সিদ্ধান্ত বাতিলের যুক্তি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা যেমন পহেলা বৈশাখ বাতিল করে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস করে প্রতিষ্ঠিত করেছি সত্যকে, একইভাবে খেলা হবে দিবস বাতিল করে আয়ুষ্মান দিবস পালন করছি ১৬ অগস্ট। এটাই তো জাতীয়তাবাদী সরকারের চলার পথ হওয়া উচিত।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *