থানায় ঢুকে শিক্ষকের নামে নালিশ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের! কানপুরের এই স্কুল কাণ্ডে তুলকালাম নেটদুনিয়া

ক্লাসে পড়াশোনা হয় না বললেই চলে। মাস্টারমশাই ব্যস্ত নিজের ফোন নিয়ে আর গল্পগুজবে। প্রতিবাদ করলে জুটছে বড়দের মারধর। আর এই সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে খোদ স্কুল থেকে সোজা থানায় গিয়ে নালিশ জানাল এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্র! কানপুর দেহাত থেকে সামনে আসা এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনয় ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কানপুর দেহাতের রাজপুর উন্নয়ন ব্লকের রাসধানে অবস্থিত একটি সরকারি স্কুলে। অভিযোগকারী ছাত্রের নাম মাধব মিশ্র, সে ওই স্কুলেরই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাধবের সোজা অভিযোগ, স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা তো দূরের কথা, শিক্ষকরা ক্লাসে পড়ানোর নাম করে সারাক্ষণ ফোনে কথা বলা ও অন্যদের সঙ্গে গল্পে মগ্ন থাকেন। এর ফলে সারাদিন ছাত্রছাত্রীদের শুধু খেলাধুলা করেই সময় কাটাতে হয়। এমনকি স্কুলের বড় ছাত্ররা তাকে নিয়মিত মারধর করে বলেও সে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। ছাত্রের দাবি, সে যখন স্কুল থেকে সোজা থানার উদ্দেশে বেরিয়েছিল, তখনও ওই শিক্ষক ফোনে ব্যস্ত ছিলেন।

পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সোজা স্কুলে হাজির ছাত্র

খুদে ছাত্রের এই সাহসী অভিযোগ শোনার পর আর বসে থাকেনি পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে ওই ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে সোজা স্কুলে গিয়ে হাজির হন পুলিশকর্মীরা। এরপরই শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে মুখোমুখি কথাবার্তা শুরু হয়। আর সেই সময়ই পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এক শিক্ষিকাকে ওই ছাত্রের ওপর চড়াও হতে এবং তাকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করতে দেখা যায়।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে সাইমা খান নামের এক শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ছাত্রছাত্রীরা যেন তাদের যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি তাঁকেই জানায়। উত্তরে ওই ছাত্রটি সাফ জানিয়ে দেয়, “আপনি তো আমাদের কথা শোনেন না!” এই কথা শোনার পরেই মেজাজ হারিয়ে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, “আমি শুনি না? তোকে এমন মারব যে, আমিই ঠিক করে দেব!” গত সোমবার, ১০ই আগস্টের এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি স্কুলের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ শেষ পর্যন্ত এই গোটা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ছাত্রটির উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তবেই আসল সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *