প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পোষা কুকুরের শিকার ১১ বছরের বালক! মাথা ও মুখে ৫০টি সেলাই পড়তেই হুলুস্থুল কাণ্ড

পাঞ্জাবের পাতিয়ালার পর এবার উত্তর প্রদেশ থেকে পোষা কুকুরের কামড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার রোমহর্ষক খবর সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) ক্যাম্পাসে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়ার সময় একটি হিংস্র কুকুর ১১ বছর বয়সী এক বালককে নির্মমভাবে আক্রমণ করে। কুকুরটি শিশুটির মাথা ও মুখে উপর্যুপরি আঁচড় ও কামড় বসায়, যার ফলে সে গুরুতর জখম হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকা শিশুটিকে তড়িঘড়ি বিএইচইউ ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা অবিলম্বে তার চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মাথা ও মুখে মারাত্মক গভীর জখমের কারণে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে সে ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনা প্রসঙ্গে শিশুটির বাবা এবং বিএইচইউ-এর সিনিয়র নার্সিং অফিসার প্রেমা রাম চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি কঠোর ভাষায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। সেইসঙ্গে, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো অবিলম্বে সংরক্ষণ করারও জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেমা রাম চৌধুরী তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বিএইচইউ ক্যাম্পাসের যোধপুর কলোনিতে বসবাস করেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি এবং তাঁর দুই ছেলে ক্যাম্পাসে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তাঁর বড় ছেলে প্রায় ২০০ মিটার এগিয়ে হাঁটছিলেন, আর ছোট ছেলে অভিনব তাঁর সঙ্গেই ছিল।

কিছুটা পথ হাঁটার পর বাবা তাঁর ছোট ছেলে অভিনবকে বলেন যে বাড়ি যেহেতু আর বেশি দূরে নয়, তাই সে যেন একাই বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এরপর তিনি তাঁর বড় ছেলেকে এগিয়ে আনতে সামনের দিকে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিনব বাড়ি থেকে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দূরে মোড় ঘোরার সময় আচমকাই একটি বেপরোয়া কুকুর তার ওপর চড়াও হয়। শিশুটির বাবা জানান, তিনি সরাসরি এই আক্রমণটি নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বড় ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে জানতে পারেন যে তাঁর ছোট ছেলে কুকুরের আক্রমণে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে।

পথচারীদের তৎপরতায় রক্ষা

হামলার পর সঞ্জয় রায় নামে এক পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, প্রাতঃভ্রমণ সেরে ফেরার পথেই তিনি একটি শিশুকে গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটির শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছিল এবং তার শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঞ্জয় রায় ও তাঁর সঙ্গীরা মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁদের সঙ্গেই এক জরুরি বিভাগের কর্মী ছিলেন, যিনি নিজের স্কুটার ব্যবহার করে আহত বালককে দ্রুত বিএইচইউ ট্রমা সেন্টারে নিয়ে পৌঁছান। সঞ্জয় রায় জানান, সেই মুহূর্তে সময় নষ্ট না করে শিশুকে বাঁচানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকরা তার জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। খবর পেয়ে শিশুটির বাবাও দ্রুত ট্রমা সেন্টারে ছুটে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার পোষ্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হিন্দি বিভাগের এক শিক্ষিকা শ্রদ্ধা সিং ঘটনার সময় তাঁর পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুকুরটির গলায় কোনো শিকল বা বেল্ট বাঁধা ছিল না এবং সেটি সম্পূর্ণ উশৃঙ্খলভাবে হঠাৎই শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তবে ঘটনার সময় কুকুরটির আসল পরিস্থিতি কী ছিল, সেটি আদৌ শিকলছাড়া ছিল কিনা কিংবা আক্রমণের নেপথ্যে ঠিক কী পরিবেশ ছিল, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পরই এই বিষয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

এই ভয়াবহ ঘটনার পর শিশুটির বাবা বিএইচইউ-এর উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহু শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পড়ুয়ারা। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে, আর সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এলেই এই হামলার আসল চিত্র পরিষ্কার হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *