নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ মাত্র ৩৫ মিনিটে! চলতি বছরেই কি চালু হচ্ছে কলকাতার নতুন মেট্রো রুট?

কলকাতার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে মেট্রো রেল। নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত বিস্তৃত অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারিত অংশে চলতি বছরেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মেট্রো রেল সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই অংশে ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত এই লাইনে মেট্রো চলাচল শুরু হলে দক্ষিণ কলকাতা এবং সল্টলেকের ব্যস্ত তথ্যপ্রযুক্তি এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বর্তমানে সড়কপথে জ্যাম এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে যেখানে দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়, সেখানে মেট্রো চালু হলে এই পুরো যাত্রাপথ মাত্র ৩৫ মিনিটেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে প্রতিদিনের হাজার হাজার অফিসযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত যে অত্যন্ত সুগম হবে, তা বলাই বাহুল্য।
চিংড়িঘাটায় শেষের পথে কাজ
এই পুরো প্রকল্পের অন্যতম সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল চিংড়িঘাটা এলাকার ‘মিসিং লিঙ্ক’। প্রায় ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ এই অংশের বেশিরভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের (RVNL) তরফে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৩৩৫ মিটার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং বাকি রয়েছে মাত্র ৩১ মিটার অংশের কাজ। এর পাশাপাশি, অরেঞ্জ লাইনের নতুন করিডরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন—সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, নলবন এবং গৌরকিশোর ঘোষ—এর নির্মাণকাজও পুরোপুরি শেষ। যার ফলে পুরো প্রকল্পটি এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।
কবে থেকে মিলবে পরিষেবা?
যাত্রী সাধারণের জন্য সম্পূর্ণভাবে গেট খুলে দেওয়ার আগে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির (CRS) কঠোর পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত পাওয়া বাধ্যতামূলক। সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিটে গেলে চলতি বছরের শেষেই নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
অরেঞ্জ লাইনের পাশাপাশি কলকাতার পার্পল লাইন প্রকল্পের কাজও জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত এই করিডর চালুর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০২৯ সালের মধ্যে। তবে আপাতত নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ রুট চালু হয়ে গেলে দক্ষিণ কলকাতা, চিংড়িঘাটা, সল্টলেক এবং সেক্টর ফাইভের মধ্যে যাতায়াতের ছবিটা পুরোপুরি বদলে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।