নেতাজিকে অপমান! অনন্ত মহারাজকে এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বারবার অসম্মানজনক মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঢেউ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরও তাঁর বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না এবং কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসকদল ও বিরোধীরা।

বিতর্কের সূত্রপাত অনন্ত মহারাজের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলার মাটিতে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারির পরেও নিজের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরেননি অনন্ত মহারাজ। উল্টোদিকে, সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি এমন কিছু নথি প্রদর্শন করেন, যা পরবর্তীতে ইতিহাসবিদদের একাংশের তরফে পুরোপুরি ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার জল গড়ায় দূরদূর পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকা জারি করে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নন বিরোধীরা। তাঁদের সাফ কথা, নেতাজির মতো মহান জাতীয় নায়ককে এই ধরনের অসম্মানের পরেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি হচ্ছে না?

এই প্রসঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, এর নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ শক্তি কাজ করছে? অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলা রুজু করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সুর শোনা গেছে অভিনেত্রী তথা নেত্রী জুন মালিয়ার গলাতেও। তাঁর মতে, গোটা দেশের মানুষই এটাই চাইবেন যে এই ধরনের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি অনন্ত মহারাজের সংসদ সদস্যপদ কেড়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, অবিলম্বে ওই সাংসদের রাজ্যসভার সদস্যপদ বাতিল করে তাঁকে জেলে পাঠানো উচিত। এদিকে, পুরো ঘটনায় রাজ্য বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলের রাজ্য সভাপতি এই বিষয়ে সমস্ত বল ঠেলে দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ডের কোর্টের দিকে। সব মিলিয়ে, বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়ার পরেও অনন্ত মহারাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *