পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় না, জেনেনিন কি কারণ?

গোটা দেশ যখন জমকালো আয়োজনে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মেতেছে এবং চারপাশ তেরঙা পতাকায় সেজে উঠেছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে। আপামর ভারতবাসী যখন ১৫ অগাস্ট এই গর্বের দিনটি পালন করছেন, তখন নদীয়া ও মালদা জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হবে আগামী ১৮ অগাস্ট।
দেশভাগের বেদনা ও বঞ্চনার ইতিহাস
ভারতের স্বাধীনতার গৌরবের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেশভাগের তীব্র বেদনা। যার জেরে নদীয়া এবং মালদা জেলার কিছু অংশে ১৫ অগাস্টের পরিবর্তে ১৮ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালনের রেওয়াজ রয়েছে। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট যখন গোটা দেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন হয়, তখনও এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলি পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল।

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বে ছিল র‍্যাডক্লিফ কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী সাইরিল র‍্যাডক্লিফ। সীমানা নির্ধারণের এই ধীরগতির কাজের কারণে নদীয়া ও মালদার বেশ কিছু অংশ ১৫ অগাস্টের পরেও পূর্ব পাকিস্তানের সীমানার মধ্যে পড়ে যায়। এই অঞ্চলগুলিতে হিন্দু জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তাঁরা কোন দেশের নাগরিক হবেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ভারতের তেরঙা উত্তোলন
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। র‍্যাডক্লিফ লাইনের তীব্র বিরোধিতা করে নদীয়ার প্রভাবশালী পরিবার এবং রাজনৈতিক নেতারা সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁরা কিছুতেই পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে থাকতে রাজি নন। তাঁদের স্পষ্টভাবে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

জনগণের এই চাপের মুখে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন বিতর্কিত সীমানা পুনরায় সংশোধন করার নির্দেশ দেন। সেই মতো র‍্যাডক্লিফ ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট চূড়ান্ত সংশোধিত সীমানা প্রস্তুত করেন। এর আগের দিন পর্যন্তও ওই অঞ্চলগুলিতে পাকিস্তানের পতাকা উড়ছিল। অবশেষে ১৭ অগাস্ট সীমান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর, ১৮ অগাস্ট সকালে ওই এলাকার বাসিন্দারা পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে প্রথমবার ভারতের তেরঙা পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৯১ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে এই বিশেষ দিন
দেশভাগের সেই অনিশ্চয়তা, প্রতিবাদ এবং লড়াইয়ের ইতিহাসকে স্মরণে রেখেই তখন থেকে ওই এলাকার মানুষ ১৮ অগাস্ট দিনটিকে নিজেদের প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগেই ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটিতে নদীয়া ও মালদার ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে মহাসমারোহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *