নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য! বঙ্গবিভূষণ কাড়তেই সুর নরম বিজেপির অনন্ত মহারাজের

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। নেতাজির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কের মুখে পড়া বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ এবার নিজের মন্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নেওয়ার পরই তাঁর এই অবস্থান বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঠিক কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ?
সম্প্রতি একটি মন্তব্যে অনন্ত মহারাজ দাবি করেছিলেন যে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির কোনো ভূমিকাই ছিল না। শুধু তাই নয়, নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা ও গ্রেফতারি
বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, নেতাজিকে নিয়ে কেউ কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করলে বা পোস্ট করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হতে পারে। এই বার্তার পরই বৃহস্পতিবার পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের তালিকায় অনন্ত মহারাজের কয়েকজন অনুগামীও ছিলেন। এর পরেই জল্পনা শুরু হয় এবং রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও প্রথমে তিনি অনড় থেকে দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো মিথ্যা বলেননি, বরং বই থেকে নেওয়া তথ্যই তুলে ধরেছেন।
অবশেষে সুর নরম ও দুঃখপ্রকাশ
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করেন অনন্ত মহারাজ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যের কারণে যদি কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। নেতাজির প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তিনি এই বার্তা দিয়েছেন বলে জানান। বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া এবং অনুগামীদের গ্রেফতারির পর অনন্ত মহারাজের এই ক্ষমা প্রার্থনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।