দেশপ্রিয় পার্কের পুজো কি বন্ধের মুখে? রাতের অন্ধকারে মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগে তুলকালাম দক্ষিণ কলকাতায়!

দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে যে, রাতের অন্ধকারে একদল দুষ্কৃতী এসে তাঁদের নির্মীয়মাণ পুজো মণ্ডপ ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে বর্তমান শাসকদলের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলছে পুরনো কমিটি। অন্যদিকে, শাসকদলের একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে ভাঙা বাঁশের ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, দুর্গাপুজো বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তবে কি এবার দেশপ্রিয় পার্কের পুজো অনিশ্চিত?
বিতর্কের নেপথ্যে কমিটি নিয়ে কোন্দল
রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব পড়েছে শহরের বহু ঐতিহ্যবাহী পুজোতেও। ঠিক তেমনই দক্ষিণ কলকাতার এই বিখ্যাত পুজোয় পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ভাই সুভাষ কুমারের নেতৃত্বে এই পুজো পরিচালিত হতো। নতুন কমিটি গঠনের প্রাথমিক বিরোধিতার পর পুরনো কমিটির সকলেই পদত্যাগ করলেও অন্দরে কোন্দল মেটেনি। এর জেরে পুরনো কমিটি পুজো সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব ও অডিট রিপোর্ট নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে নারাজ। এমনকী বার্ষিক সাধারণ সভাও ডাকা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
গত ৯ অগাস্ট রবিবার সন্ধ্যায় নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নতুন কমিটি গঠন ও দ্রুত পুজোর কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঠিক তার পরেই রাতের অন্ধকারে প্যান্ডেলের বাঁশ খুলে ফেলার মতো ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তরজা শুরু হতেই পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করে।
প্যান্ডেল ভাঙার আসল সত্যি কী?
এই অভিযোগ উড়িয়ে বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক তথা নতুন কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা সোমনাথ সিনহা জানান, ২০১১ সাল থেকে এই ক্লাব রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন সব দলের ঊর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে ঐতিহ্যবাহী এই পুজো করবেন। কিন্তু পুরনো কমিটি তা মেনে নিতে চাইছে না। তাঁর দাবি, সুভাষ কুমারের মদতে পুরনো কমিটি হিসাব হস্তান্তর করছে না এবং এজিএম ডাকছে না।
সোমনাথবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একপক্ষ জোর করে বাঁশ পুঁতে প্যান্ডেল গড়ার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারাই সেই বাঁশগুলি খুলে দিয়েছেন। এখানে কোনও দুষ্কৃতী তাণ্ডব বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি, পুরো প্রচারটাই ভিত্তিহীন।
আদৌ কি পুজো হবে দেশপ্রিয় পার্কে?
উদ্যোক্তাদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশপ্রিয় পার্কের ৮৯তম দুর্গাপুজো যথাসময়েই হবে। এবছর ৭০ ফুট উঁচু বৌদ্ধ বিহারের আদলে মণ্ডপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল প্রতিমা তৈরির কাজও এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তবে প্যান্ডেলের কাজ এখনও শুরু না হওয়ায় কিছুটা সময় নষ্ট হচ্ছে। আগামী রবিবার, ১৬ অগাস্ট বার্ষিক সাধারণ সভা ডেকে নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এখন দেখার, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই পুজো তার পুরোনো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।