গাঁজা সেবনের বিতর্ক মাথা চাড়া দিতেই নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ! কড়া নিয়মের খাঁড়ায় এয়ার ইন্ডিয়া

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী বিমানের পাইলটের ডোপ টেস্টে গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি মেলায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কড়া পদক্ষেপ করল বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। নিরাপত্তার খাতিরে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সমস্ত পাইলটের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট (Dope Test) শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে বলে সংস্থার তরফে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিসিএ (DGCA)-র নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম তারা কঠোরভাবে মেনে চলে। এমনকি আমেরিকা এবং ইউরোপের বড় বিমান সংস্থাগুলিতেও এই ধরনের কড়া নিয়ন্ত্রণবিধি চালু রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর যাত্রী সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মকে আরও এক ধাপ এগিয়ে সমস্ত পাইলটের সামগ্রিক পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শরীরে নিষিদ্ধ কোনো মাদক বা নির্দিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
কোথায় এবং কীভাবে হবে পরীক্ষা? সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুগ্রামের এয়ার ইন্ডিয়া অ্যাকাডেমিতে পাইলটদের প্রশিক্ষণের সময় এই ডোপ টেস্ট চালানো হবে। এছাড়াও, উড়ান শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার (Flight Briefing Centre) এবং সংস্থার নির্ধারিত অফিসগুলিতেও পাইলটদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
যে ঘটনার জেরে এই কড়া পদক্ষেপ: গত ৪ আগস্ট ঘটে যাওয়া AI-2379 উড়ান সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনাই এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ফুকেত থেকে ১৩৭ জন যাত্রী ও আট জন ক্রু সদস্যকে নিয়ে দিল্লি আসার পথে ওড়িশার আকাশে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল বিমানটি। এই আকস্মিক ঝাঁকুনি ও উচ্চতা হ্রাসের ফলে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চার জন ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরই বিমানের কমান্ডিং পাইলট সুদীপ বশিষ্ঠকে নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, ওই পাইলটের ডোপ টেস্ট দু’বারই পজিটিভ এসেছে এবং তাঁর শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার উপস্থিতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, তদন্তের নথিপত্র অনুযায়ী বিমান যখন আচমকা উচ্চতা হারাচ্ছিল, সেই সংকটজনক মুহূর্তেও তিনি ককপিটের নিজের আসনে ছিলেন না; সেই সময় কো-পাইলট বিমানটি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এমনকি দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রস্রাবের নমুনা দেওয়ার সময় তাঁকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়েছিল বলে জানা যায়।
তদন্তে পাইলট দাবি করেছিলেন যে ঘুমের সমস্যার কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেয়েছিলেন এবং ফুকেতে লে-ওভারের সময় তাঁর পর্যাপ্ত ঘুম হয়নি। তবে তাঁর ডিউটির সময়সূচি নিয়মের মধ্যেই ছিল বলে দাবি করা হলেও এই চরম গাফিলতি মেনে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর বিমানের যাত্রী সুরক্ষা (Flight Safety) এবং আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে পাইলটদের এই বাধ্যতামূলক পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।