ফুকেত-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটের মেইনটেন্যান্স রিপোর্ট ফাঁস! মাঝআকাশে কোন কোন ত্রুটির মুখোমুখি হয়েছিল বিমানটি?

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের পোস্ট-ফ্লাইট মেইনটেন্যান্স রিপোর্টকে ঘিরে সম্প্রতি তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইট নম্বর AIC2379 এবং VTSP–VIDP রুটে চলাচলকারী VT-EXO রেজিস্ট্রেশনের বিমানটির গত ৪ অগস্টের ওই রক্ষণাবেক্ষণ রিপোর্টে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সতর্কবার্তার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। বিমানটির হাইড্রোলিক সিস্টেম, অটোফ্লাইট, এলিভেটর কন্ট্রোল এবং ইঞ্জিনসহ একাধিক সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই গোলযোগ রেকর্ড করা হয়েছে।

হাইড্রোলিক সিস্টেম ও অটোফ্লাইটে গোলযোগ
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটির হাইড্রোলিক সিস্টেমে বড়সড় ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। এতে HYD G, HYD B+Y এবং HYD G+B সিস্টেমগুলিতে লো প্রেসার (Low Pressure) সংক্রান্ত সতর্কবার্তা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, HYD Y এবং HYD B রিজার্ভারে হাইড্রোলিক তরলের মাত্রা কমে যাওয়ার (Low Level) কথাও স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বিমানের অটোফ্লাইট সিস্টেমে Auto Flight AP Off বা অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার সতর্কবার্তাও একাধিকবার রেকর্ড হয়েছে। ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের ক্ষেত্রে বাঁ ও ডান দিকের এলিভেটর ফল্ট (Left & Right Elevator Fault)-এর তথ্যও রিপোর্টে নথিভুক্ত রয়েছে।

দরজার সেন্সর ও ইঞ্জিন সংক্রান্ত ত্রুটি
বিমানটির জরুরি দরজাগুলি নিয়েও সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ রিপোর্টে Right Forward Emergency Exit এবং Right Aft Emergency Exit-এর বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা নথিভুক্ত হয়েছে।

হাইড্রোলিক বা ফ্লাইট কন্ট্রোল ছাড়াও বিমানটির ইঞ্জিন সংক্রান্ত অংশেও সমস্যা ধরা পড়েছে। রিপোর্টে Engine 1 A.ICE সংক্রান্ত একটি মেসেজ রেকর্ড হয়েছে। ফেইলিওর মেসেজ (Failure Messages) অংশে AFS: HYD G 1151GN এবং AFS: ELAC2 1A-এর মতো কারিগরি ত্রুটির উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ইঞ্জিন সংক্রান্ত ফেইলিওর মেসেজে ENG1D-2454-UP NAI VLV – PRSOV1 HIGH PRESS লেখা রয়েছে, যা ইঞ্জিনের সংশ্লিষ্ট ভালভে উচ্চ চাপের সমস্যার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

নিরাপত্তার প্রশ্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ
যদিও এই পোস্ট-ফ্লাইট মেইনটেন্যান্স রিপোর্টে একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সতর্কবার্তা নথিভুক্ত থাকার বিষয়টি পরিষ্কার, তবে শুধুমাত্র এই নথির ভিত্তিতে বিমানটি উড্ডয়নের সময় ঠিক কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বা অবতরণের পর কী ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও, একটি বাণিজ্যিক বিমানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে একসঙ্গে এতগুলি ত্রুটি রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজরকাড়া বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *