দিল্লিতে ফের ছাত্র আন্দোলনের ঝড়! এবার দেশজুড়ে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ শুরুর হুংকার ককরোচ জনতা পার্টির

দিল্লির রাজপথে ছাত্র আন্দোলনের তোলপাড় ফেলে দেওয়া উত্তাল অধ্যায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও একধাপ এগিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের নতুন প্রস্তুতি শুরু করে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party – CJP)। বুধবার এক স্পষ্ট ঘোষণায় সারা দেশে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ (Jantar Mantar Season 2) শুরু করার তীব্র হুংকার দিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)।

১. ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ ও দেশব্যাপী ‘লিসেনিং ট্যুর’

গত মাসেই দিল্লির যন্তর মন্তরে দেশের ছাত্র সমাজের এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক প্রতিবাদ দেখেছিল দেশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস, মেধাবী পড়ুয়াদের লাগাতার আত্মহত্যা এবং সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সেই জোরালো প্রতিবাদের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ দীপকে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু তরুণ-তরুণী তাঁকে বারবার প্রশ্ন করছেন যে কবে আসছে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’? তাঁদের উদ্দেশে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুত এবং আরও বৃহত্তর পরিসরে শুরু হতে চলেছে এই নতুন প্রতিবাদের পর্ব।

তবে বিষয়টিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ সাধারণ বিক্ষোভ হিসেবে দেখতে নারাজ সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেন, “এই পুরো আন্দোলনটাই আসলে সিজন ২। দেশের সরকারের বিরুদ্ধে চতুর্দিকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। সিজেপির তরফ থেকে আমরা এবার একটি দেশব্যাপী ‘লিসেনিং ট্যুর’ (জনগণের কথা শোনার যাত্রা) শুরু করছি, যাতে সাধারণ মানুষের মনের আসল কথা জানা যায়। আগামী স্বাধীনতা দিবস থেকেই এর শুভসূচনা হচ্ছে, যার মূল কেন্দ্রে থাকবে বর্তমানের এই ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা।”

২. প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৈঠকের অনুমতি বাতিলের মারাত্মক অভিযোগ

প্রতিবাদের এই নতুন ও জোরালো রূপরেখা ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ এনেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, দিল্লিতে দলের ভলান্টিয়ারদের নিয়ে একটি সাধারণ ও অভ্যন্তরীণ বৈঠকের আয়োজন করতে গিয়ে তাঁদের মারাত্মক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। একের পর এক অডিটোরিয়াম বা হল মালিক শেষ মুহূর্তে তাঁদের বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে হল মালিকরা নাকি তাঁদের পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, এই সভা আয়োজনের ওপর ‘উপর মহল থেকে স্পষ্ট রাজনৈতিক চাপ’ রয়েছে। সভা করতে না দেওয়ার এই জবরদস্তিমূলক ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *