‘জনগণনা ছাড়াই কর্পোরেশন দখলের চক্রান্ত!’ ডিলিমিটেশন নিয়ে কুণাল ঘোষের পর এবার পথে নেমে সুর চড়াল কংগ্রেস

কলকাতা কর্পোরেশনের পুর পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং বিতর্কিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation)-এর প্রতিবাদে বড়সড় আন্দোলনে নামল প্রদেশ কংগ্রেস। ওয়েলিংটন স্কোয়ার থেকে মিছিল করে কলকাতা কর্পোরেশন অভিযানের ডাক দেন কংগ্রেস কর্মীরা। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে বসে পড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান খোদ প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। অন্যদিতে, একই ইস্যুতে এদিন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলও সর্বদলীয় বৈঠক ও গণশুনানির জোরালো দাবি তুলেছে।
১. কংগ্রেসের কর্পোরেশন অভিযান ও পুলিশের বাধা
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে ওয়েলিংটন স্কোয়ার থেকে মিছিলটি এসএন ব্যানার্জি রোড ধরে কলকাতা কর্পোরেশনের দিকে এগোতে থাকে। তবে জানবাজারের মুখে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ অন্যান্য নেতারা রাস্তায় বসে পড়েন এবং একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে যান।
২. শুভঙ্কর সরকারের মারাত্মক অভিযোগ
শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে সার্বিকভাবে পৌর প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ কোনো পরিষেবা পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, “জনগণনা ছাড়াই অবৈধভাবে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে এবং ওয়ার্ড ভাঙা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি না মেনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কলকাতা কর্পোরেশন দখল করতে চাইছে বিজেপি।”
৩. তৃণমূলের অন্দরেও অসন্তোষ ও কুণাল ঘোষের বক্তব্য
এদিকে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদিকে যখন কংগ্রেস আন্দোলন করছে, ঠিক তখনই কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও রত্না শুরকে সঙ্গে নিয়ে কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করেন। কুণাল ঘোষ জানান, ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করার আগে সর্বদলীয় বৈঠক এবং গণশুনানি করা বাধ্যতামূলক। খসড়াটি কীভাবে এবং কারা তৈরি করল, সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও বিধায়কদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে তাঁদের জানান যে, এই ধরনের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার কোনো এক্তিয়ার তাঁর নেই।