টোকিও থেকে দেশে ফিরবে নেতাজির চিতাভস্ম? রেনকোজি মন্দির মামলায় কেন্দ্রের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

টোকিওর রেনকোজি মন্দির থেকে মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি দীর্ঘদিনের। আর এবার সেই দাবির পক্ষেই সরাসরি শিলমোহর দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত।

টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ বা দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আইনি লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ করলেন নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের কাছে সরকারি অবস্থান জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে কী হলো? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নেতাজিকন্যা অনিতা বোসের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর সমস্ত যুক্তি ও আইনি দিক শোনার পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিস জারি করে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

অনিতা বোস ফাফের দাবি কী? নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যু নিয়ে দশকের পর দশক ধরে নানা রহস্য, তত্ত্ব ও জল্পনা চলে আসছে। তবে নেতাজিকন্যা অনিতা বোসের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জাপানের রেনকোজি মন্দিরে যে দেহাবশেষ সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে, তা তাঁর বাবা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুরই। তাই তাঁর জোরালো দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সেই চিতাভস্ম সসম্মানে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক এবং স্বাধীন ভারতের মাটিতেই তাঁর মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হোক।

অন্তর্ধান রহস্য এবং রেনকোজি তত্ত্ব: ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন নেতাজি এবং পরবর্তীতে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। এরপর তাঁর দেহ সৎকার করে সেই চিতাভস্ম জাপানের রেনকোজি মন্দিরে সঁপে দেওয়া হয়। ভারত সরকারও দীর্ঘকাল ধরে এই বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্বকেই স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

তবে এই মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে অতীতে একাধিক তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল। শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জি ডি খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্ত্ব মেনে নিলেও, পরবর্তীকালে বিচারপতি মুখার্জি কমিশন সেই তত্ত্ব সরাসরি খারিজ করে দেয়। যদিও কেন্দ্র সেই মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি, জাপানে থাকা ওই চিতাভস্ম আদতে নেতাজির কি না, তা নিশ্চিত করতে অতীতে ডিএনএ পরীক্ষারও জোরালো দাবি তুলেছিলেন অনেকে।

এমতাবস্থায় নেতাজিকন্যার এই আইনি পদক্ষেপ গোটা দেশজুড়ে দেশনায়কের অন্তর্ধান রহস্য এবং তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তীব্র কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এখন এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের মোদী সরকার সুপ্রিম কোর্টে কী জবাব দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *