নিয়োগ জটে বিরাট স্বস্তি! পিএসসি-র মাধ্যমে রাজ্যে মেগা নিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট প্রকাশ, কোন বিভাগে কত শূন্যপদ?

দীর্ঘদিনের নিয়োগ জট কাটিয়ে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবার বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা অনিল ভার্মা এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যজুড়ে মেগা নিয়োগের একগুচ্ছ রূপরেখা প্রকাশ করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
প্রতিক সাহা
রাজ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নিয়োগ জট কাটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগকে ত্বরান্বিত করতে এক যুগান্তকারী ও মেগা পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা অনিল ভার্মা এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যজুড়ে সরকারি শূন্যপদ পূরণের একগুচ্ছ রূপরেখা প্রকাশ করেন। পিএসসি চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে আর কোনো রকম ঢিলেমি বা কালক্ষেপ করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনামূলক বৈঠকের প্রভাব: গত ৩০ জুলাই রাজ্যের সমস্ত নিয়োগকারী সংস্থাকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনামূলক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই নিয়োগ ব্যবস্থায় একাধিক যুগান্তকারী সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, এতদিন মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন এবং কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশন আলাদাভাবে নিয়োগ পরিচালনা করলেও, এখন থেকে সেই সমস্ত বড় দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে পিএসসি-র ওপর। আটকে থাকা সমস্ত পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশ এবং বকেয়া পরীক্ষাগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ রয়েছে সরকারের তরফে।
কোন বিভাগে কত শূন্যপদ? একনজরে পরিসংখ্যান: এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একাধিক সুসংবাদ দিয়েছেন পিএসসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, রাজ্যের মোট ৫৪টি দফতর থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই পিএসসি-র কাছে সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র এসে পৌঁছেছে। বিভিন্ন স্তরে হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণের কাজ এখন একেবারে দোরগোড়ায়:
-
গ্রুপ ‘এ’ ক্যাটাগরি: জুডিশিয়াল অফিসার, ডাব্লুবিসিএস (এগজিকিউটিভ), পুলিশ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস, লিগ্যাল সার্ভিস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে মোট ২,৪৯০টি শূন্যপদ রয়েছে।
-
গ্রুপ ‘বি’ ক্যাটাগরি: এই সমতুল্য পদগুলিতে মোট ২,৮৪৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগ করা হবে।
-
গ্রুপ ‘সি’ ক্যাটাগরি (ক্লারিক্যাল স্তর): বর্তমান নিয়োগগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগ হতে চলেছে এই স্তরে। ক্লারিক্যাল ও সমতুল্য পদে মোট ১২,৩৭০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এই বিপুল পদের জন্য ইতিমধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। স্ক্রিনিং, প্রিলিমিনারি ও মেইন—এই তিন স্তরের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন প্রায় ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার পরীক্ষার্থী। কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই বকেয়া ফলাফলগুলি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
আসছে নতুন শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি ও বয়সের ছাড়: পুরনো ও বকেয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথও উন্মুক্ত করছে কমিশন। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে আরও প্রায় ৮,০০৬টি নতুন শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এর ফলে আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, সরকারি নিয়ম এবং গত ১৬ মে অর্থ দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সমস্ত নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে কমিশন।