বাঘ বাড়লেও বাড়েনি জঙ্গল! লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানায় চরম আতঙ্ক, মধ্যপ্রদেশের পরিসংখ্যানে চোখ কপালে উঠবে

বন্য পশুর আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জন মানুষ! যার মধ্যে একুশ-বাইশ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর একমাত্র কারণ বাঘের হানা। মধ্যপ্রদেশ বন দপ্তরের সদ্য প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই রাজ্যে মানুষের এই অস্বাভাবিক প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বাঘ ছাড়াও বুনো শুয়োর, হাতি, ভালুক এবং চিতাবাঘের আক্রমণেও একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে শুধু মানুষ নয়, ঠিক একই সময়ে রাজ্যে ৪৫টিরও বেশি বাঘের আকস্মিক মৃত্যুও বন্যপ্রাণপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কেন বাড়ছে এই প্রাণহানি? বন দপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসেই বন্যপ্রাণীর হানায় প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি থাকে। চলতি বছরেও এই তিন মাসের মধ্যেই প্রায় ৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিশেষ সময়টিতে স্থানীয় ও আদিবাসী মানুষরা জঙ্গল বা জঙ্গলসংলগ্ন এলাকায় মহুয়া ফুল ও তেন্দুপাতা সংগ্রহ করতে প্রবেশ করেন। এর ফলে বন্য পশুর সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।

সীমিত অভয়ারণ্য ও জায়গার অভাব: মূল সমস্যার শেকড় রয়েছে অন্য জায়গায়। ২০২২ সালের শেষ বাঘ গণনা অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে বাঘের সংখ্যা ছিল ৭৮৫টি, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কিন্তু সেই তুলনায় সংরক্ষিত অভয়ারণ্য বা জঙ্গলগুলির আয়তন বা পরিধি বাড়েনি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও শিকার করার জন্য যে পরিমাণ ভৌগোলিক এলাকার প্রয়োজন, তা সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই তারা জঙ্গল ছেড়ে লোকালয় ও সংলগ্ন কৃষি জমিতে চলে আসছে। আর তাতেই মানুষ ও বাঘের সংঘাত এবং দুই পক্ষেরই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা চরম আকার ধারণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *