আসল নাকি নকল রুদ্রাক্ষ? ২ টাকার কয়েন আর জলের ট্রিক জানলেই আর কেউ ঠকাতে পারবে না!

হিন্দুধর্মে রুদ্রাক্ষের একটি অত্যন্ত বিশেষ ও পবিত্র স্থান রয়েছে। এগুলিকে ভগবান শিবের অলঙ্করণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং মহাদেবের ভক্তরা ভক্তিভরে রুদ্রাক্ষের দানা বা মালা ধারণ করেন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, “রুদ্রাক্ষ” শব্দটি এসেছে ‘রুদ্র’ (ভগবান শিব) এবং ‘অক্ষ’ (অশ্রু বা চোখ) থেকে।
তবে বর্তমান বাজারে আসল রুদ্রাক্ষের পাশাপাশি দেদার বিকোচ্ছে নকল বা ভেজাল রুদ্রাক্ষ। তাই না জেনে নকল রুদ্রাক্ষ পরিধান করলে কাঙ্ক্ষিত ফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন ভক্তরা। আসল ও নকল রুদ্রাক্ষ চেনার কিছু সহজ ব্যবহারিক এবং বৈজ্ঞানিক উপায় নিচে দেওয়া হলো:
আসল রুদ্রাক্ষ চেনার প্রধান উপায়সমূহ:
টেক্সচার এবং প্রাকৃতিক রেখা: আসল রুদ্রাক্ষের দানায় উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সুস্পষ্ট ও গভীর রেখা থাকে এবং এগুলো স্বাভাবিকভাবেই একটু উঁচু দেখায়। অপরদিকে, নকল রুদ্রাক্ষে এই রেখাগুলো প্লাস্টিক বা কাঠের উপর আঁকা সোজা দাগের মতো খোদাই করা থাকে। আসল রুদ্রাক্ষের উপরিভাগ সম্পূর্ণ মসৃণ হয় না, বরং ছোট ছোট কাঁটার মতো অমসৃণতা থাকে।
তামার মুদ্রা পরীক্ষা: রুদ্রাক্ষের বিশেষ তড়িৎ-চুম্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দুটি তামার মুদ্রার মাঝে একটি আসল রুদ্রাক্ষ রেখে হালকা চাপ দিলে এর মধ্যে সামান্য নড়াচড়া বা কম্পন অনুভূত হয়।
জল পরীক্ষা: এক গ্লাস পরিষ্কার জলে রুদ্রাক্ষ ফেললে একটি আসল, পাকা ও ভারী রুদ্রাক্ষ সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে যায়। তবে রুদ্রাক্ষ খুব শুকনো বা কাঁচা হলে অনেক সময় ভাসতেও পারে, তাই এটি একমাত্র ১০০% নিশ্চিত পদ্ধতি নয়।
বিবর্ধক কাচ (Magnifying Glass) পরীক্ষা: লেন্স দিয়ে দেখলে আসল রুদ্রাক্ষের গায়ে স্বাভাবিক ছোট ছোট ছিদ্র ও ফাটল দেখা যায়। পক্ষান্তরে, প্লাস্টিক বা কাঠের তৈরি নকল রুদ্রাক্ষ ছাঁচে ঢালা হওয়ায় বেশ সমান ও মসৃণ লাগে।
এক্স-রে পরীক্ষা: রুদ্রাক্ষ আসল কি না এবং এর ভেতরে প্রাকৃতিক কোষ্ঠ বা বীজগুলো কেমন আছে তা জানার সবচেয়ে নিখুঁত উপায় হলো এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান।
যে সমস্ত রুদ্রাক্ষ থেকে সাবধান থাকবেন:
সংযুক্ত রুদ্রাক্ষ: অনেক সময় দুটি আলাদা রুদ্রাক্ষের অংশ আঠা দিয়ে জুড়ে বিরল মুখী (যেমন একমুখী বা একুশমুখী) রুদ্রাক্ষ বলে বিক্রি করা হয়। কাছ থেকে দেখলে জোড়ের রেখা বা আঠার গন্ধ পাওয়া যায়।
ভদ্রাক্ষ: দেখতে রুদ্রাক্ষের মতো হলেও এর আকৃতি চ্যাপ্টা হয় এবং এতে কোনো আধ্যাত্মিক গুণ থাকে না।
প্লাস্টিক বা কাঠের রুদ্রাক্ষ: এগুলি ওজনে বেশ হালকা হয় এবং গরম করলে প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ বের হয়।
কোথায় পাবেন ১০০% বিশুদ্ধ রুদ্রাক্ষ?
নেপাল হলো রুদ্রাক্ষের বৃহত্তম উৎপাদক। বাজারে সাধারণত পঞ্চমুখী বা একমুখী রুদ্রাক্ষ বেশি দেখা যায়। আপনি চাইলে উত্তরপ্রদেশের শ্রী কৃষ্ণ জন্মস্থানের ১ নং গেটে অবস্থিত ‘শুভম শৃঙ্গার কেন্দ্র’ থেকে ১০০% বিশুদ্ধ ও ল্যাব-পরীক্ষিত রুদ্রাক্ষ সংগ্রহ করতে পারেন।
এই কেন্দ্র থেকে রুদ্রাক্ষ কিনলে একটি বিশেষ গ্যারান্টি কার্ড ও বারকোড দেওয়া হয়। ওই বারকোড স্ক্যান করলেই রুদ্রাক্ষের ওজন এবং ল্যাব টেস্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সামনে চলে আসে। বিক্রেতাদের মতে, তাদের এখানে যে রুদ্রাক্ষ আসে তা সরাসরি নেপাল থেকে সংগৃহীত এবং হরিদ্বারের ল্যাবে পরীক্ষিত।
বিশেষ পরামর্শ: কোনো মূল্যবান বা দুর্লভ রুদ্রাক্ষ কেনার সময় সবসময় বিশ্বস্ত এবং স্বীকৃত (ISO Certified) ল্যাব থেকে পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা শংসাপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।