কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে ধস ও গর্তের জেরে বড় বিতর্ক! এনএইচএআই ও পিএনসি ইনফ্রাটেকের দ্বন্দ্বে তোলপাড়

কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ে (Kanpur-Lucknow Expressway)-র নির্মাণকারী সংস্থা পিএনসি ইনফ্রাটেক (PNC Infratech) বর্তমানে এক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এই মেগা প্রকল্পের বেশ কিছু অংশে ভূমিধস এবং বড় বড় গর্ত বা ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং নির্মাণ সংস্থার পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে তীব্র অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে।

NHAI-এর তদন্ত ও এনএইচএআই-এর কড়া পদক্ষেপ
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-র একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি তদন্তে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ রাস্তাটিতে অত্যন্ত দুর্বল নির্মাণ এবং অ্যাসফাল্টের (Asphalt) স্তর বা পিচ সঠিকভাবে না বসানোর ফলেই এক্সপ্রেসওয়েটির এই বেহাল দশা হয়েছে। এই গাফিলতির জেরে এনএইচএআইয়ের পক্ষ থেকে ওই সংস্থাকে ‘নন-পারফর্মার’ (Non-Performer) বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পিএনসি ইনফ্রাটেকের স্পষ্টীকরণ ও শেয়ারের দরপতন
অন্যদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পিএনসি ইনফ্রাটেক বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-কে চিঠি পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে। কোম্পানির দাবি, তাদের এখনও পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করা হয়নি কিংবা ‘নন-পারফর্মার’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়নি; বরং তাদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) জারি করা হয়েছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশের ক্ষতির জন্য সাম্প্রতিককালের একটানা ভারী বৃষ্টিপাতকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু এনএইচএআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটির প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে বা ভেঙে গেছে। পাশাপাশি, রাস্তার বিভিন্ন অংশে প্রায় ৮৪টি বড় ধরনের ত্রুটি খুঁজে পাওয়া গেছে। এই বিতর্কের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্টক বাজারে, যার জেরে পিএনসি ইনফ্রাটেকের শেয়ারের দামে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

নির্মাণে ত্রুটি নাকি অন্য কোনো দুর্নীতি?
রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার, লাগাতার বৃষ্টি নাকি প্রশাসনিক তদারকিতে বড় কোনো গাফিলতি— এই প্রশ্ন এখন সব মহলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ের এই বেহাল অবস্থার জন্য ঠিক কে বা কারা দায়ী, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, পিএনসি ইনফ্রাটেক বা এর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অতীতেও দুর্নীতির অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে হাইওয়ে নির্মাণ প্রকল্প সংক্রান্ত ঘুষ লেনদেনের একটি গুরুতর অভিযোগে সিবিআই (CBI)-এর পক্ষ থেকেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, এই মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *