মাঝরাতে বাড়ি ফিরেও তীব্র বিক্ষোভের মুখে সাংসদ জগদীশ ও বিধায়ক সঙ্গীতা রায়, ছাড়লেন এলাকা!

কোচবিহার জেলায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র একটি আসন— সিতাই। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকার বিধায়িকা সঙ্গীতা রায়কে নিজের এলাকায় দেখা যায়নি। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী তথা কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াও এতদিন ছিলেন দিল্লিতে। অবশেষে সোমবার মাঝরাতে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরলেও শান্তি মেলেনি। তীব্র বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পড়ে রাতেই ফের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন এই দম্পতি। সাংসদের সাফাই, তিনি এলাকায় কোনো রাজনৈতিক অশান্তি বা গন্ডগোল চান না, তাই স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

বাড়ি ফেরা ও রাতের নাটকীয় পরিস্থিতি

জগদীশবাবু ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং এতদিন দিল্লিতেই ছিলেন। অন্যদিকে, পুত্রের চিকিৎসার কারণে বিধায়িকা সঙ্গীতা রায় কলকাতায় ছিলেন বলে খবর। গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর মাত্র একবারই এই সাংসদ-বিধায়ক দম্পতিকে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেলেও তাঁরা নিজের বাড়িতে যাননি।

অবশেষে সোমবার রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাই বাজার এলাকায় নিজেদের বাসভবনে প্রবেশ করেন জগদীশ ও সঙ্গীতা। কিন্তু তাঁরা বাড়িতে ফিরেছেন, এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে চরম শোরগোল শুরু হয়ে যায়। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই একদল ক্ষুব্ধ মানুষ তাঁদের বাড়ি ঘিরে ফেলে তীব্র স্লোগান ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

মাঝরাতে পুলিশের পাহারা ও এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত সাংসদ-বিধায়কের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন বিক্ষোভকারীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দম্পতি বাড়িতে প্রবেশ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।

জানা গিয়েছে, রাত ১২টা নাগাদ তাঁরা বাড়ি ঢুকলেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাত ২টা নাগাদ পুলিশি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। সিতাই থেকে তাঁরা সরাসরি কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কী বলছেন সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া?

মাঝরাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া ফোনে জানিয়েছেন, “আমার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাড়িতে ছিল, সেগুলি নিতেই গিয়েছিলাম। তাছাড়া এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার খোঁজখবর নেওয়াও দরকার ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যদি বাড়িতে থেকে যেতাম, তবে হয়তো রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হতে পারত। আমি চাই না আমার উপস্থিতির কারণে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হোক বা কোনো গন্ডগোল পাকাক। তাই আমি নিজেই রাতেই এলাকা ছেড়ে চলে এসেছি।”

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও জগদীশবাবু এনডিএ-র শরিক শিবিরে এবং সঙ্গীতা দেবী বর্তমানে ‘ভালো তৃণমূল’ বা ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে রয়েছেন, তবুও এই জনরোষের পেছনে কাদের হাত রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “কে কখন বাড়িতে ঢুকবেন আর কখন বেরোবেন, সেই খবর তো আমাদের কাছে থাকে না। তবে আমাদের দলের কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে যে এমন কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভ করা যাবে না। এখন সাধারণ মানুষ যদি নিজে থেকে এ সব করে থাকে, তবে তাতে আমাদের তো কিছু করার নেই।” সবমিলিয়ে, মাঝরাতের এই ঘটনায় কোচবিহারের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *