৩১ অগস্টের মধ্যেই কি বন্ধ হবে বেতন? ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ প্রক্রিয়া মাঝপথেই স্থগিত হওয়ায় তুঙ্গে বিতর্ক

তৃণমূল জমানার নিয়োগ দুর্নীতির জেরে চাকরি হারানো ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কড়া ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাতই একাদশ-দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এর ফলে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই বড় রকমের জটপ্রক্রিয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

কেন স্থগিত রাখা হলো নথি যাচাই?
পর্ষদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২, ১৩ এবং ১৭ অগস্ট শিক্ষক পদপ্রার্থীদের যে নথি যাচাই পর্ব চলার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগের গত ৭ অগস্টের একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত, ২০১০ সালের পর ওবিসি (OBC) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। যার মধ্যে ৭৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়। ২০২৪ সালের মে মাসের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তৎকালীন সরকার সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত মাত্র ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। আর এই ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও দড়িটানই শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়াটিকে থমকে দিয়েছে।

বেতনহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চাকরিহারা শিক্ষকরা তাঁদের বর্তমান বেতন পেতেই থাকবেন। সেই মেয়াদের শেষ সময়সীমা ছিল আগামী ৩১ অগস্ট। অন্যদিকে, শিক্ষাকর্মীরা আগেই বেতন হারালেও শিক্ষকরা এতদিন তা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ৩১ অগস্টের মধ্যে যদি নতুন নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকরাও বেতনহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত কাউকেই চূড়ান্ত নিয়োগপত্র বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ
এই আকস্মিক স্থগিতাদেশ ও অনিশ্চয়তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা কেউই জানি না ৩১ অগস্টের পর কী হবে। আমাদের চাকরি থাকবে নাকি থাকবে না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এতদিন নবম-দশমের ভেরিফিকেশন চলছিল এবং একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সিলিং শুরু হয়েও আটকে গিয়েছে। আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন, কিন্তু এখনও কোনো সদুত্তর মেলেনি।” এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে রাজ্য সরকার এই জটিলতা কাটিয়ে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করে কি না, নাকি এই ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে আরও বড় আইনি সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *