পারিবারিক আয় কত? নতুন নিয়মে বাংলায় কোন কোন প্রকল্পের টাকা মিলবে, কারাই বা হবেন বঞ্চিত?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেও বাংলায় চালু ছিল একাধিক আর্থিক সাহায্যকারী ভাতা ও প্রকল্প। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী ও কন্যাশ্রীর মতো নানান জনমুখী প্রকল্প। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর এবং নতুন ব্যবস্থার অধীনে এই সমস্ত ভাতার পাশাপাশি চালু হয়েছে একাধিক নতুন প্রকল্প। আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি, কন্যারত্ন থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ— তালিকায় যুক্ত হয়েছে বহু নাম।

তবে এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কি সকলেই পাবেন? উত্তর হলো— না। প্রতিটি প্রকল্পের সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পারিবারিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে কোন প্রকল্পের আয়ের সীমা কত, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ: রাজ্যে পড়ুয়াদের জন্য চালু হওয়া এই স্কলারশিপ উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এতে মাসে ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য মেলে। তবে পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

যুবশক্তি ভরসা যোজনা: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করতে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে উপভোক্তারা মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান। তবে এক্ষেত্রেও পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।

স্বাস্থ্য বিমা ও আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে উপভোক্তারা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পান। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হতে পারবে না। অন্যদিকে, যারা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসেন না, তাদের জন্য রয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা আট লক্ষ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও অন্যান্য ভাতা: নতুন ব্যবস্থায় বৃদ্ধ ভাতা এবং বিধবা ভাতার পরিমাণ দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩, হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই সমস্ত ক্ষেত্রে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট আয়ের সর্বনিম্ন সীমা না থাকলেও, পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিতে যুক্ত থাকলে, আয়করদাতা হলে কিংবা নিয়মিত পেনশন পেলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *