চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় স্বস্তি

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চোখের জটিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে আগামী ৩ সপ্তাহের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে আইনি লড়াইয়ের আবহে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে বড় স্বস্তি মিলল।
চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আদালতের অনুমতি
দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের পুরোনো চোট ও তার জটিলতা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হচ্ছিল। এর আগে একাধিকবার তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা হয়েছে। সেই সুবাদেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন। সমস্ত আইনি দিক এবং চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ও শারীরিক অবস্থার কথা বিচার বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ৩ সপ্তাহের জন্য দেশ ছাড়ার এই অনুমতি প্রদান করে।
শর্তসাপেক্ষে বিদেশ ভ্রমণ
যদিও এই অনুমতি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত নয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশ যাত্রার আগে তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু আইনি শর্ত ও নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:
ভ্রমণের সঠিক সময়সীমা: আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে অনুমোদিত ৩ সপ্তাহের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে তার উপস্থিতির প্রমাণ বা ট্রাভেল রিটার্ন জমা দিতে হবে।
তথ্য জমা দেওয়া: বিদেশ যাওয়ার আগে গন্তব্যস্থল, সেখানকার যোগাযোগের ঠিকানা এবং চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
অন্যান্য আইনি নির্দেশ: তদন্তের স্বার্থে বা আদালতের অন্য কোনো শুনানির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নির্দেশ থাকলে তা মান্য করার বাধ্যবাধকতাও বজায় থাকছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রেক্ষাপট
কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত এবং বিভিন্ন আইনি মামলার বেড়াজালে অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে বেশ কয়েকবার আইনি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এর আগেও চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার জন্য তাঁকে উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে যেমন তাঁর দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার পথ প্রশস্ত হলো, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। চিকিৎসাকে সম্পূর্ণ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের এই মানবিক ও আইনি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চিকিৎসা সম্পন্ন করে তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন বলেই দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।