বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা শেষ! ঘরে আনুন এই অত্যাধুনিক ‘বিদ্যুতের গাছ’, মিলছে বাম্পার সরকারি সাবসিডি

দেখতে অবিকল সবুজ গাছের মতো, কিন্তু এর কাজ একেবারে একটি আধুনিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো। নাম তার “সোলার ট্রি” (Solar Tree)। শহরের ছোট ফ্ল্যাট হোক কিংবা জায়গার অভাব থাকা ছাদ—বিদ্যুতের খরচ কমাতে এখন যুগান্তকারী সমাধান হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তির গাছ। সামান্য জায়গাতেই তাক লাগিয়ে দেওয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগাচ্ছে এই সোলার ট্রি।

কীভাবে কাজ করে এই ‘বিদ্যুতের গাছ’?

সোলার ট্রির মূল ভিত্তি হলো একটি শক্তপোক্ত স্টিলের খুঁটি। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম বেশ কিছু ডালপালা, যেগুলোতে বসানো থাকে পিভি (PV) প্যানেল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্য যেদিকে ঘোরে, প্যানেলগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেদিকে ঘুরে যায়। এর ফলে সাধারণ ছাদের সোলার প্যানেলের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। দিনের আলোয় তৈরি হওয়া ডিসি (DC) কারেন্ট ব্যাটারিতে জমা হয় এবং ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি (AC) কারেন্টে রূপান্তরিত হয়ে সরাসরি বাড়িতে সরবরাহ করা হয়।

সোলার ট্রির ৭টি অবিশ্বাস্য বিশেষত্ব:

  1. ১০০ গুণ কম জায়গা লাগে: ৪০০ বর্গফুটের সাধারণ সোলার প্যানেল যে পরিমাণ বিদ্যুৎ দেয়, একটি সোলার ট্রি তার চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মাত্র ৪ বর্গফুট জায়গার মধ্যে। কলকাতার মতো শহরের ছোট ফ্ল্যাটের ছাদের জন্য এটি আদর্শ।

  2. ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ: দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ লিথিয়াম ব্যাটারিতে সঞ্চিত থাকে। ফলে রাতে, মেঘলা দিনে বা লোডশেডিংয়ের সময়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

  3. স্মার্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম: প্যানেলগুলো নিজেই সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে। এছাড়া বৃষ্টির জলে প্যানেলের ধুলোবালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়, ফলে আলাদা করে পরিষ্কারের ঝামেলা নেই।

  4. অল-ইন-ওয়ান মাল্টিফাংশনাল সুবিধা: এই গাছের নিচে বসার বেঞ্চ, এলইডি স্ট্রিট লাইট, চারটি ইউএসবি চার্জিং পোর্ট, ওয়াইফাই হটস্পট এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরাও ইনস্টল করা সম্ভব। স্কুল, পার্ক বা প্রাঙ্গণের জন্য এটি পারফেক্ট।

  5. পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘস্থায়ী: এতে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না। একবার ইনস্টল করলে দীর্ঘ ২৫ বছর পরিষেবা দেয় এবং বছরে মাত্র দু’বার সার্ভিসিং করালেই চলে।

  6. ঝড়-বৃষ্টিতেও সুরক্ষিত: ১০০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত তীব্র গতিবেগের ঝড় সহ্য করতে সক্ষম। জংরোধী গ্যালভানাইজড স্টিল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বন্যায় বা অতিরিক্ত বৃষ্টিতেও এটি নষ্ট হয় না।

  7. ৩০% পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি: MNRE-এর গ্রিন এনার্জি প্রকল্পের অধীনে এতে ৩০% পর্যন্ত সাবসিডি পাওয়া যায়। এছাড়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিশেষ লোনের ব্যবস্থা রয়েছে।

খরচ এবং কারা লাগাতে পারবেন?

একটি ৫ কিলোওয়াট (5KW) সোলার ট্রির দাম সাধারণত ৫.৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে সরকারি সাবসিডি বাদ দিলে এর খরচ নেমে আসে ৩.৮ থেকে ৪.৯ লক্ষ টাকায়।

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প, অফিস, পার্ক, ফ্যাক্টরি এবং বড় অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা এটি সহজে ইনস্টল করতে পারেন। প্রতি মাসে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হলে ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যেই পুরো প্রাথমিক খরচ উঠে আসে এবং বাকি ২০ বছর পুরোটাই লাভ।

ভারতে সোলার ট্রির উপস্থিতি

বর্তমানে দুর্গাপুরের CSIR-CMERI প্রথম এটি তৈরি করলেও, এখন কলকাতার ইকো পার্ক, নিউটাউন, দিল্লির ইন্ডিয়া গেট এবং গুজরাটের বিভিন্ন স্মার্ট সিটিতে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বহু গ্রাম পঞ্চায়েতেও এর পাইলট প্রজেক্ট চলছে।

যাদের পর্যাপ্ত জমি বা বড় ছাদ নেই, অথচ সোলার এনার্জি ব্যবহার করতে চান—তাদের জন্য সোলার ট্রি এক অতুলনীয় বিকল্প। গাছ না কেটে, গাছ আকৃতির এই প্রযুক্তি দিয়ে আপনার ঘরের আলো জ্বালান এবং পরিবেশ সুরক্ষিত রাখুন।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *