তৈরি থাকবে জমি, রাস্তা থেকে জল-বিদ্যুৎ! কেন্দ্রের মেগা ‘ভব্য’ প্রকল্পে বড় চমক বাংলার

রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত महत्वाধায়ক ‘ভব্য’ (BHAVYA – ভারত অড্যোগিক বিকাশ যোজনা) প্রকল্পে এবার অত্যন্ত সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন উন্নত শিল্পাঞ্চল বা শিল্প পার্ক গড়ে তোলা, যেখানে কারখানা তৈরির আগে জমি অধিগ্রহণ, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, জল এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। এর ফলে লগ্নিকারীদের শিল্প গড়তে অযথা সময় নষ্ট হবে না এবং তাঁরা খুব সহজেই দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবেন।
ডব্লিউআইআইডিসি (WBIIDC)-কে নোডাল এজেন্সি ঘোষণা
কেন্দ্রের এই ‘ভব্য’ প্রকল্প মসৃণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম বা WBIIDC-কে রাজ্যের একমাত্র ‘স্টেট নোডাল এজেন্সি’ (SNA) হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। গত ২৪ জুলাই রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তরের বিশেষ সচিবের জারি করা একটি সরকারি চিঠিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় বছরে মোট ৩৩,৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মোট ১০০টি ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ (Plug-and-Play) শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে। এই পার্কগুলির বিশেষত্ব হলো, এখানে বিনিয়োগকারীরা ‘রেডি টু ইনভেস্ট’ বা বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জমি পাবেন। এর ফলে ব্যবসায়িক পরিকাঠামো দাঁড় করানোর প্রাথমিক ঝামেলা থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলবে এবং শিল্প স্থাপনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। শুধু বৃহৎ শিল্পই নয়, এই প্রকল্পের আওতায় স্টার্টআপ, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), ডিপ-টেক এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনভিত্তিক ক্ষেত্রগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে চলেছে কেন্দ্র।
কোন দুই জেলায় চিহ্নিত হলো নতুন জমির টুকরো?
সূত্রের খবর, রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই শিল্পে জোয়ার আনতে কেন্দ্রের এই ‘ভব্য’ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য জোরদার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে সম্ভাব্য শিল্প পার্কের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে—
নদীয়ার ধুবুলিয়া (Dhubulia): এখানে প্রায় ১১৮.৫০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমানের হরিপুর (Haripur): এই এলাকায় প্রায় ১৪৮.৬৯ একর জমিকে সম্ভাব্য শিল্প পার্কের জন্য প্রাথমিক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এখন সম্পূর্ণ বিষয়টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। এই দুই এলাকায় আধুনিক শিল্প পরিকাঠামো গড়ে উঠলে তা যে বাংলার অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।