রেশনের চাল নিয়ে বড় বদল আনছে কেন্দ্র! সাধারণ মানুষের থালায় কি এবার আরও ঝরঝরে ও ভালো মানের ভাত?

রেশনের (Ration) চালের গুণমান উন্নত করতে এবং ইথানল উৎপাদন নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। রেশনের জন্য বরাদ্দ চালে ভাঙা চালের পরিমাণ ধাপে ধাপে কমানোর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই নতুন নীতি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যগুলিও। ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুম থেকে এই নতুন নিয়ম পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নিয়ে আগামী নভেম্বর মাস থেকেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের খাদ্যদপ্তর।
রেশনের চালে কী কী পরিবর্তন আসছে?
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেশনের চালের মান আরও উন্নত করার জন্য প্রথম পর্যায়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:
সেদ্ধ চাল: সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ভাঙা চালের সর্বোচ্চ অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সরাসরি ৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
আতপ চাল: আতপ চালের ক্ষেত্রেও ভাঙা চালের পরিমাণ ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
শুধু তাই নয়, সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ ২০২৭-২৮ খরিফ মরশুম থেকে রেশনের চালে ভাঙা চালের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার মেগা পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
এই নীতির ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ রেশন চালের পাশাপাশি স্কুলের মিড ডে মিল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহ করা খাদ্যের গুণমানও অনেকখানি উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাল থেকে ইথানল উৎপাদনই কি আসল লক্ষ্য?
খাদ্যের গুণমান বৃদ্ধি ছাড়াও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে এক বিশাল জ্বালানি নীতি। পেট্রলের সঙ্গে মেশানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইথানলের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করাও কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ভুট্টা, আখ কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া অন্যান্য খাদ্যশস্যের তুলনায় চাল থেকে ইথানল তৈরি করলে উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে। হিসাব বলছে, অন্যান্য উপাদানের তুলনায় চাল থেকে প্রতি লিটার ইথানল উৎপাদনে প্রায় ৫ থেকে ৭ টাকা কম খরচ হয়।
ফলস্বরূপ, গত কয়েক বছরে চাল থেকে ইথানল উৎপাদনের প্রবণতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মোট ইথানল উৎপাদনের এক শতাংশেরও কম আসত চাল থেকে, যা মাত্র দুবছরের ব্যবধানে ২০২৫-২৬ সালে লাফিয়ে ২৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। আগামী দিনে এই পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী খরিফ মরশুমে ইথানল তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় খাদ্য নিগম বা এফসিআই (FCI) প্রায় ৭২ লক্ষ টন চাল সরবরাহ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাইস মিলগুলিতে প্রযুক্তিগত বদল আনার নির্দেশ
রেশনের চালে ভাঙা চালের পরিমাণ কমাতে গেলে ধান থেকে চাল উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। সরকারি ধান থেকে চাল তৈরি করার সময় রাইস মিলগুলির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে প্রযুক্তিগত বা কারিগরি পরিবর্তন (Technical Upgradation) আনতে হবে। এই পুরো বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের খাদ্যদপ্তর থেকে বিভিন্ন জেলার মিলগুলিকে কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। মিলগুলিতে অবিলম্বে এই পরিবর্তনের কাজ শুরু করার কথাও বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই নতুন নীতির ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হাতে আরও ভালো মানের উন্নত রেশন চাল পৌঁছবে, তেমনই অন্যদিকে সবুজ জ্বালানি বা ইথানল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত এক বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।