দাদাগিরির মঞ্চে চোখের জলে ভাসলেন দেব! বাবা-মায়ের কিসের ত্যাগের কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন অভিনেতা?

জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘দাদাগিরি’র আগামী একটি স্পেশাল এপিসোড নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। বিশেষ এই পর্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মঞ্চে হাজির থাকবেন টলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় ও বরেণ্য তারকারা—মিঠুন চক্রবর্তী, মমতা শঙ্কর, বিশ্বজিৎ, বিশ্বনাথ বসু এবং তুলিকা বসু। হাসি, ঠাট্টা আর নস্ট্যালজিয়ায় মেতে উঠতে চলা এই পর্বের একটি প্রমো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মিঠুন ও মমতা শঙ্করের দীর্ঘদিনের পুরনো প্রেমের প্রসঙ্গ উঠতেই লজ্জায় লাল হয়ে উঠতে দেখা যায় তারকা যুগলকে। তবে এই হাসিখুসি পরিবেশের মাঝেই দাদাগিরির মঞ্চে তৈরি হয় এক পাত্তড় আবেগঘন মুহূর্ত, যা মন জয় করেছে সকলের।

ক্যামেরার সামনে মায়ের উদ্দেশ্যে দেবের অজানা কথা
দাদাগিরির নতুন এই প্রমোতে শোয়ের অন্যতম প্রতিযোগী অভিনেত্রী তুলিকা বসু অভিনেতা দেবকে অনুরোধ করেন মায়ের উদ্দেশ্যে এমন কিছু কথা বলতে, যা তিনি আজ পর্যন্ত কখনও বলেননি। এই কথা শুনেই আবেগে ভেসে যান দেব।

সোজা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাত জোড় করে দেব বলেন, “আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই, মা তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। তুমি না থাকলে আমি আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারতাম না। যদিও বাবাও পাশে না থাকলে আমি এখানে পৌঁছতে পারতাম না।”

বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করলেন দেব
বাবা-মায়ের অতীতের কঠিন লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে দেবের। তিনি জানান, তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে বাবা-মা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। দেব বলেন, “বাবা একদম নিঃশব্দে আমাকে সাপোর্ট করে গিয়েছেন। অনেক সময় এমনও হয়েছে, আমার পড়াশোনার জন্য বাবা-মা তাঁদের সমস্ত সম্বল ও পুঁজি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এমনকি বোনের বিয়ের জন্য জমানো টাকাও তাঁরা আমার কেরিয়ার গড়ার জন্য তুলে দিয়েছিলেন।”

অভিনেতা আরও জানান, কলকাতায় যখন তিনি স্ট্রাগল করতে আসেন, সেই কঠিন সময়েও বাবা নিজের পকেটের সমস্ত টাকা তাঁকে দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এতকিছুর পরেও বাবা-মা কখনই তাঁকে বোঝাননি যে তিনি কত বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দেবের কথায়, “তাঁরা একবারের জন্যেও আমাকে বলেননি যে আর কতদিন তাঁরা আমাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবেন! এই কটূকথা আমাকে জীবনের একটি দিনের জন্যও শুনতে হয়নি।”

যদিও কাজের ব্যস্ততার কারণে দেব হয়তো সবসময় পরিবারকে সময় দিতে পারেন না, তবে তাঁর জীবনে বাবা, মা এবং বোনের গুরুত্ব কতটা গভীর, তা এই দিন দাদাগিরির মঞ্চে তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *